যুক্তরাজ্যে রেকর্ড তাপপ্রবাহে রাস্তা গলে যাওয়ার আশঙ্কা, গাড়িচালকদের ভ্রমণ স্থগিত করার অনুরোধ
যুক্তরাজ্যে যেসব চালকের যানবাহনে কার্যকর এয়ার কন্ডিশনিং নেই, তাদেরকে বর্তমান তাপপ্রবাহের সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিটিশ মোটরিং সংস্থা আরএসি এই জরুরি আহ্বান বা অনুরোধ জারি করে। তারা চালকদের "ধৈর্য" ধরারও অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ রেকর্ড পরিমাণ চাহিদার কারণে গাড়ি বিকল বা ব্রেকডাউন সহায়তার জন্য অপেক্ষার সময় দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য কার্যকর থাকা আবহাওয়া অফিসের অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের লাল সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরামর্শটি দেওয়া হয়েছে।
আরএসি-এর সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র রড ডেনিস বলেন, এসব সতর্কতা "বিরল" এবং "আমরা সবাইকে এই সপ্তাহে এগুলো গুরুত্ব সহকারে নিতে অনুরোধ করছি"।
তিনি আরও বলেন, "যেসব চালকের যানবাহনে কার্যকর এয়ার কন্ডিশনিং নেই, তাদের উচিত মেট অফিসের আবহাওয়া সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া এবং তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত যেকোনো অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ভ্রমণ স্থগিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা।"
"যদি এটি সম্ভব না হয়, আমাদের সেরা পরামর্শ হলো দিনের তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে ভ্রমণ করা।"
তিনি বলেন, এই সপ্তাহটি "জুন মাসের জন্য রেকর্ড ভাঙা একটি সপ্তাহ হতে পারে", যানবাহন বিকল হওয়ার কারণে সেবা কল-আউটের সংখ্যার দিক থেকে।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের সর্বশেষ সবচেয়ে ব্যস্ত জুন ছিল তিন বছর আগে, তবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এই সপ্তাহে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।"
"আজ আমরা আশা করছি, জুন মাসের শেষ দিকের একটি সাধারণ সোমবারের তুলনায় ব্রেকডাউন-এর পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ বেশি হবে" বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, "আমরা অনুরোধ করছি, যারা ব্রেকডাউন-এর শিকার হবেন তারা যেন ধৈর্য ধরেন, কারণ ব্রেকডাউন সেবা প্রদানকারীরা সবচেয়ে জরুরি রাস্তার কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। তাপপ্রবাহ যুক্তরাজ্যজুড়ে সেবা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে এবং সব টহল দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও দীর্ঘ অপেক্ষার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।"
এএ-এর প্রেসিডেন্ট এডমুন্ড কিং বলেছেন, চালকদের "গ্রীটার" নামের যন্ত্র রাস্তায় দেখা গেলে অবাক হওয়া উচিত নয়।
এই যন্ত্রগুলো সাধারণত শীতকালে রাস্তার বরফ জমা ঠেকাতে লবণ ছিটানোর কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে উচ্চ তাপমাত্রায় হালকা বালুর প্রলেপ ছড়াতেও এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, যখন বাতাসের তাপমাত্রা "নিম্ন থেকে মধ্য ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে" পৌঁছায়, তখন রাস্তার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি যেতে পারে।
গত মাসে পূর্ব অ্যাঙ্গলিয়ায় তাপের কারণে বেশ কয়েকটি রাস্তা গলে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে, যেমন বুরি সেন্ট এডমন্ডসের কাছে স্ট্যানটনের এ১৪৩ সড়ক।
তিনি আরও বলেন, "পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌছালে কিছু রাস্তা বিশেষ করে পুরোনো বা দুর্বল রাস্তা নরম হয়ে যেতে পারে।"
"তবে বিষয়টি এমন না যে রাস্তা হঠাৎ করে সব জায়গায় 'গলে যাবে', বরং চালকদের জন্য প্রধান ঝুঁকি হলো কিছু কিছু স্থানে রাস্তা আঠালো বা অসমান হয়ে যেতে পারে।"
"এটি ব্রেকিং, স্টিয়ারিং এবং গ্রিপে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে, এবং ঢিলা উপাদান ছিটকে আসতে পারে।"
যেসব চালক নরম হয়ে যাওয়া রাস্তার পৃষ্ঠের মুখোমুখি হবেন, তাদেরকে ধীরে গাড়ি চালাতে, হঠাৎ ব্রেক বা স্টিয়ারিং এড়াতে এবং সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এডমুন্ড কিং বলেন, তাপমাত্রা গাড়ির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
গরম আবহাওয়ায় টায়ার ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে যেসব টায়ার ঠিকভাবে ফোলানো নয়, ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোনো।
তিনি আরও বলেন, উচ্চ তাপমাত্রায় পার্ক করা গাড়িতে পশুদের অল্প সময়ের জন্যও ফেলে রাখা উচিত নয়, কারণ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত "চুলার মতো" হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, তাপের কারণে ট্রেন যাত্রীদেরও যাত্রা বিঘ্নিত হওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত লন্ডন প্যাডিংটন এবং রিডিংয়ের মধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কম ট্রেন চলবে।
এর কারণ হলো নেটওয়ার্ক রেল কিছু পয়েন্ট—যা ট্রেনকে ট্র্যাক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে—সেগুলো এই রুটে সরাচ্ছে না, যাতে উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যর্থতার ঝুঁকি কমানো যায়। কারণ গরমে এই ধরনের সমস্যা বেশি হয়।
ট্রান্সপোর্ট ফর ওয়েলস নেটওয়ার্কে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে পন্টিপ্রিদ ও কার্ডিফ বে-এর মধ্যে এবং কোরিটন ও পেনার্থের মধ্যবর্তী রুটও রয়েছে।
সাউথ ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে "সার্ভিসগুলো স্বল্প নোটিশে বাতিল বা পরিবর্তিত হতে পারে।"
