ভোক্তা মূল্যসূচক ও জিডিপি হিসাব পদ্ধতিতে সংস্কার আনছে সরকার, গঠন হচ্ছে কমিটি
দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর করতে সঠিক তথ্যের ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি ভোক্তা মূল্যসূচক ও জিডিপি হিসাব পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (২০ জুন) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিপিআই, মূল্যস্ফীতি, মজুরি হার সূচক এবং জিডিপি প্রণয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা শেষে এসব কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
তিনি বলেন, 'জিডিপি ক্যালকুলেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সূচক, যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই হিসাব পদ্ধতি আরও নির্ভুল, আধুনিক ও বাস্তবসম্মত করা প্রয়োজন।'
তিনি বলেন, 'সিপিআই ও জিডিপি ক্যালকুলেশন শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের অন্যতম ভিত্তি। তাই এখানে কোনো ধরনের ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা পুরো পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।'
তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে সরকার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তাদের মতামত সংগ্রহ করে একটি প্রাথমিক প্রস্তাব তৈরি করা হবে।'
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বর্তমান পরিস্থিতির সঠিক চিত্র জানা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য অতীতের তথ্য পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং যেখানে তথ্য বিকৃত বা ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে ফরেনসিক তদন্তের মতো করে যাচাই-বাছাই করা হবে।'
তিনি বলেন, 'আমরা দেখেছি, অনেক ক্ষেত্রে উপস্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।'
তিনি যোগ করেন, 'এছাড়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।'
বৈঠকে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স প্রণয়নের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, 'মূল্যস্ফীতি নির্ধারণে ব্যবহৃত এই সূচককে আরও আধুনিক ও বাস্তবসম্মত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উন্নত পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনা রয়েছে।'
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।'
