রিজার্ভ চুরি মামলা: খসড়া চার্জশিট নিয়ে কর্মকর্তাদের বরাতে দেওয়া তথ্য সিআইডির নয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, খসড়া চার্জশিট বিষয়ে সিআইডি কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যমে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা প্রদান করেননি।
শুক্রবার (১৯ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, "সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত সংবাদ সিআইডির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনে সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাতে খসড়া চার্জশিট বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা কোনো গণমাধ্যমকে প্রদান করেননি। অতএব, উক্ত বক্তব্যসমূহকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।"
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, "মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর সিআইডি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য জানাবে।" সিআইডি গণমাধ্যমকে এই মামলার সংবাদ প্রকাশে সিআইডির আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করতে অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটি পেশাদারিত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তদন্ত অব্যাহত রাখবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে সিআইডি। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে সম্প্রতি খসড়া অভিযোগপত্রটি আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর বের হয়।
সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত ১ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন—তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে ইতিমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আগে আইনি মতামত পর্যালোচনা করা জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেছিলেন, "তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।"
সিআইডি সূত্রে পাওয়া তথ্যে গণমাধ্যমে আরও এসেছিল, প্রস্তাবিত অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ১০ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। এ ছাড়া ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা ও মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি আনিস এ খানসহ বেশ কয়েকজনের নাম থাকার কথা শোনা যাচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়। হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেয়। ঘটনার ৪০ দিন পর মতিঝিল থানায় মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করার পর এই তদন্তে গতি আসে।
