Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Saturday
June 13, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SATURDAY, JUNE 13, 2026
ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে শতভাগ নিরাপদ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ

টিবিএস রিপোর্ট
09 June, 2026, 10:15 pm
Last modified: 09 June, 2026, 10:59 pm

Related News

  • বড় বিনিয়োগ আসতে হবে পুঁজিবাজার থেকে, ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে: অর্থমন্ত্রী
  • বাজেটকে ‘দলীয় বাজেট’ বলা নিকৃষ্ট মন্তব্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা তুলতে সমস্যা হবে না: গভর্নর
  • সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিটি শ্রেণির মানুষের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
  • নতুন বাজেট অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে শতভাগ নিরাপদ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী বলেন, “কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে নিয়ে যায়, বিশ্বে এমন কোনো নজির নেই। গ্রাহকরা দেখেন তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা। একটি মহল ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করিয়ে দেশে আর্থিক শৃঙ্খলা নেই—এমনটি প্রমাণ করতে চাইছে।”
টিবিএস রিপোর্ট
09 June, 2026, 10:15 pm
Last modified: 09 June, 2026, 10:59 pm
জাতীয় সংসদে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে শতভাগ নিরাপদ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে একটি নোটিশ উত্থাপন করেন। নোটিশে তিনি দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সকল প্রকার অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে আলোচনার দাবি জানান। বিরোধী দলীয় নেতার এই নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় নেতার নোটিশকে সমর্থন করেন তার দলের ৫ জন সংসদ সদস্য। এছাড়া দলটির চারজন সংসদ সদস্য এর ওপর বক্তব্য রাখেন।

বিরোধী দলের নেতাদের মূল বক্তব্য ছিল—বিগত সরকারের সময়ে এই ব্যাংকটির প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের সরিয়ে এস আলম গ্রুপের কাছে শেয়ার হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকৃত শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসলেও, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে এমন ব্যক্তিদেরই ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এমডি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে যাতে এস আলম গ্রুপ পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পায়।

সরকারি দলের পক্ষে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, এই ব্যাংকটিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় কাজে ব্যবহার করেছে। এমনকি সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও এই ব্যাংক থেকে রাজনৈতিক কাজে অর্থায়ন করা হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদে এই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, শেয়ার হস্তান্তর, চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ ও পদত্যাগ, গ্রাহকদের টাকা তুলে নেওয়া, গ্রাহকদের আন্দোলন, এই ব্যাংক থেকে কাকে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং এই ব্যাংকের অর্থায়নে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ব্যয় ইত্যাদি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিপদে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, "কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে নিয়ে যায়, বিশ্বে এমন কোনো নজির নেই। গ্রাহকরা দেখেন তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা। একটি মহল ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করিয়ে দেশে আর্থিক শৃঙ্খলা নেই—এমনটি প্রমাণ করতে চাইছে।"

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, "বিগত নির্বাচনে আমরা দেখেছি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ হয়েছে। এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন যাদের আয়ের কোনো উৎস জানা নেই, অথচ তারাও ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই যে 'আনআর্নড ইনকাম' বা বিনা পরিশ্রমে অর্জিত টাকা যখন রাজনীতিতে আসে, তা খুবই ক্ষতিকর।"

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে তদন্তে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কিছুই পাওয়া যায়নি। একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করে চলে যায়—এর কোনো নজির দুনিয়াতে নেই। আসলে যারা টাকা তুলে নিয়ে গেছে, তারা ইসলামী ব্যাংকটাকে বিপদে ফেলতে চাচ্ছে। এর পেছনে বিশেষ কোনো শক্তির হাত রয়েছে, যারা ব্যাংকটিকে ফেইল করিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।'

ইসলামী ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানো ও মুনাফার যে দাবি করা হচ্ছে, সেটির কড়া সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিগত যে দুই বছরের প্রফিটের কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত 'উইন্ডো ড্রেসিং' বা কৃত্রিমভাবে ভালো দেখানো। ওই দুই বছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ক্যারি ফরওয়ার্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও তথ্য দেন যে, ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিও-র ৫১ শতাংশ। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটি ৬৯ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৮৪ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে।

অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যখন ইসলামী ব্যাংক দখল হলো, তখন তো গ্রাহকরা টাকা প্রত্যাহার করেননি। তাহলে এখন কেন করবেন? তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ব্যাংকটিকে তার বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী যেখানে শেয়ারহোল্ডার বা গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কা দেখছে, সেখানেই পরিবর্তন আনছে। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও রয়েছে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে 'মবোক্রেসি' বা উচ্ছৃঙ্খলতার প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে উগ্র মিছিল ও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। যেকোনো ঘটনা ঘটলেই একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাকে 'ঋণগ্রস্ত' বলে হেয় করার চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ থাকাটা স্বাভাবিক, একে ঋণখেলাপির সঙ্গে মেলানো উচিত নয়।

বিএনপি সবসময় আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির বিগত সরকারগুলোর ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, সেসময় ম্যাক্রো ইকোনোমিক স্ট্যাবিলিটি সবচেয়ে সতেজ ছিল। আমরা সেই আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই কাজ করছি। ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে শতভাগ নিরাপদ বলেও আশ্বস্ত করেন অর্থমন্ত্রী।

এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের অব্যাহত অপপ্রচার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক হয়রানি সত্ত্বেও ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংক ৪৪৭ কোটিরও বেশি টাকা মুনাফা অর্জন করে। সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী সরকার নজিরবিহীন উপায়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ দখল করে এবং ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মের মাধ্যমে শুধু এই ব্যাংককেই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালে ব্যাংকের মুনাফা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান সম্ভব হয়নি। খেলাপি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছে যায়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হচ্ছিল। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়। ঠিক এমন সময় আবারও পুরোনো ব্যাংক-দখলকারী চক্রের দৃষ্টি ব্যাংকটির দিকে পড়েছে। নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ব্যাংকটিকে 'জামায়াতের প্রতিষ্ঠান' হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনমনে এ ধরনের ধারণা যে একেবারেই নেই, তা বলা যাবে না। তবে একই সঙ্গে এটিও অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, যেই ব্যবস্থাপনাকে 'জামায়াতপন্থী' বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেই ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রেখেই দেশের লাখো গ্রাহক ব্যাংকটিতে বিপুল পরিমাণ আমানত রেখেছিলেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই ব্যবস্থাপনাও সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংককে বিশ্বের অন্যতম সফল ও মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী ব্যাংকে পরিণত করেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে 'জামায়াতি ব্যবস্থাপনা'র অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল এবং যার পরিণতিতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আজ আবারও একই কৌশলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এর ফল যে ব্যাংক, গ্রাহক কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না, তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। এক দিনেই গ্রাহকরা প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা আমানত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা আস্থার সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিরোধী দল ইসলামী ব্যাংককে যে ন্যায়নীতির পথে ফেরত আনার কথা বলছে, ওই ন্যায়নীতির পথে ফেরত আনার জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এই মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, "বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেছেন এই ব্যাংকের শেয়ারগুলো ডাকাতি করে কিনে নেওয়া হয়েছে। ইবনে সিনার ২ শতাংশ শেয়ার ছিল। ব্লক মার্কেটে তিন গুণ দামে তারা শেয়ার বিক্রি করেছে। জামায়াতে ইসলামী বলছে ব্যাংকের মালিক তারা নয়, আবার বলছে ইসলামের ওপর হাত দিবেন না। কয়দিন আগে জামায়াতে ইসলামীর দুইজন এমপি এবং আরেকজন পরাজিত এমপি বলেছেন ইসলামের ওপর হাত দিবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। জনাব মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দিবেন না দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক হিসেবে রাস্তায় আন্দোলন করছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, এই ব্যাংকের 'আরডিএস' নামে একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে, যার কাজ পল্লী উন্নয়ন। সেখানে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া যায়। ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা করে অনেক নারীকে দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এটা মাফ হয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, ইসলামী ব্যাংক থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা ডিস্ট্রিবিউট হয়েছে। ১১ হাজার কোটি টাকা আগে দেওয়া হয়েছিল, আর ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর পরে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার কোনো হদিস নেই। এছাড়া নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই মালামাল বিক্রয় করে ব্যাংকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। দুষ্টু লোকেরা বলে, সেই টাকা কোনো এক দলের নির্বাচনে লেগেছে। ওই গ্রুপ একটি টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেই চ্যানেলটি কোন পক্ষে খেলছে তা সবার জানা। তার ব্যাংক লায়াবিলিটি ১৬ হাজার কোটি টাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ব্যাংকের সিএসআর তহবিলের ব্যয়, নিয়োগ এবং গ্রাহকদের অর্থ স্থানান্তর নিয়ে তদন্তের দাবি জানান।

বিরোধী দলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হলে গ্রাহকরা আন্দোলন করবে এবং সারা দেশে বড় ধরনের অস্থিরতা হওয়ার আশঙ্কা আছে।

ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম বলেন, ২৪টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি আমানতকারীদের টাকা সময়মতো ফেরত দিতে পারছে না। মানুষ টাকা তুলে নিচ্ছে কারণ ব্যাংকের প্রতি আস্থা নেই। বড় ঋণখেলাপিদের মধ্যে শীর্ষে এস আলম। ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার ফলে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। ডলারের রেট ৮৪ টাকা থেকে ১২৬ টাকায় চলে গেছে, যার ফলে আইএমএফ-এর দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

জামায়াতের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মারিয়া মমতাজ অভিযোগ করেন, এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। গভর্নরের পরিবারের সঙ্গে এমডির স্ত্রীর বিরোধ ছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে যা দেশের অর্থনীতি এবং ব্যাংকের জন্য অবমাননাকর।

Related Topics

টপ নিউজ

অর্থমন্ত্রী / ইসলামী ব্যাংক / গ্রাহক / জামায়াত আমির / স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • খরার কবলে চীনের জিয়াংসি প্রদেশ। পোয়াং হ্রদের উপনদী গান নদীর শুকিয়ে যাওয়া তলদেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ফাটল। ছবি: রয়টার্স
    আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে ‘গডজিলা’ এল নিনো; দ্রুত ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের
  • ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স
    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক
  • মো. মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
    নিজের খেলাপি ঋণ নিয়ে যা বললেন গভর্নর
  • ছবি: রয়টার্স
    অভিবাসী কমাতে নজিরবিহীন পরিকল্পনা সুইজারল্যান্ডের, জনসংখ্যা রাখতে চায় ১ কোটির মধ্যে; হবে গণভোট
  • ফুজেইরাহ তেল শিল্প জোনে ইরানের হামলা, ১৪ আম্রচ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
    সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখবে—এই শর্তে আমিরাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান
  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: রয়টার্স
    উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির দায়ে দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

Related News

  • বড় বিনিয়োগ আসতে হবে পুঁজিবাজার থেকে, ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে: অর্থমন্ত্রী
  • বাজেটকে ‘দলীয় বাজেট’ বলা নিকৃষ্ট মন্তব্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা তুলতে সমস্যা হবে না: গভর্নর
  • সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিটি শ্রেণির মানুষের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
  • নতুন বাজেট অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

Most Read

1
খরার কবলে চীনের জিয়াংসি প্রদেশ। পোয়াং হ্রদের উপনদী গান নদীর শুকিয়ে যাওয়া তলদেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ফাটল। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে ‘গডজিলা’ এল নিনো; দ্রুত ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

2
ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

3
মো. মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

নিজের খেলাপি ঋণ নিয়ে যা বললেন গভর্নর

4
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

অভিবাসী কমাতে নজিরবিহীন পরিকল্পনা সুইজারল্যান্ডের, জনসংখ্যা রাখতে চায় ১ কোটির মধ্যে; হবে গণভোট

5
ফুজেইরাহ তেল শিল্প জোনে ইরানের হামলা, ১৪ আম্রচ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখবে—এই শর্তে আমিরাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান

6
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির দায়ে দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net