বড় বিনিয়োগ আসতে হবে পুঁজিবাজার থেকে, ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে: অর্থমন্ত্রী
দেশের আর্থিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ এখন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে আসা উচিত।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে 'রোড ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি ২০২৬–নেভিগেটিং রিস্কস: লিভারেজিং রেজিলিয়েন্স' শীর্ষক এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উইং এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি বিষয়ে তথ্যনির্ভর নীতিনির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদী আমানত এবং উচ্চ সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার বর্তমান কাঠামোটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী—কারো জন্যই ভালো ফল দিচ্ছে না। তিনি বলেন, 'উচ্চ সুদের হার, স্বল্পমেয়াদী আমানত এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের অসামঞ্জস্যতা কারোর জন্যই মঙ্গলজনক নয়—ব্যাংকের জন্য নয়, গ্রাহকদের জন্যও নয়।' বাংলাদেশকে এখন পুঁজিবাজারের দিকে অগ্রসর হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন (ইক্যুইটি) ও ঋণ সংগ্রহের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন এবং ঋণ গ্রহণ করা উচিত।' বিদ্যমান আর্থিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরকারি আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থায়নের প্রবাহে পরিবর্তন এসেছে এবং বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উৎস থেকে ঋণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, 'বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের খরচ বাড়ছে। এমনকি যেসব বহুপাক্ষিক ঋণদাতা আগে ১ শতাংশের নিচে ঋণ দিত, তাদের সুদের হারও এখন ১ থেকে ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।'
ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী একটি নতুন ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ব্যবসা-সংক্রান্ত নিয়মকানুন সহজীকরণ বা 'ডি-রেগুলেশন' কার্যক্রম তদারকি করতে সরকার একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
