ইরান চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ‘সিচুয়েশন রুমে’ ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত চুক্তিতে সই করবেন কি না, তা নির্ধারণ করতে নিজের উপদেষ্টাদের নিয়ে হোয়াইট হাউসের 'সিচুয়েশন রুমে' জরুরি বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছি।'
ওই পোস্টে সম্ভাব্য চুক্তির বেশ কিছু কঠোর শর্ত তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তার উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো:
১. পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ: ইরানকে অবশ্যই এই মর্মে একমত হতে হবে যে, তারা কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না।
২. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের টোল বা জাহাজ চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ রাখা যাবে না।
৩. মাইন অপসারণ: হরমুজের নৌ-পথে ইরানের পেতে রাখা সব মাইন অবশ্যই অপসারণ করতে হবে।
৪. অবরোধ প্রত্যাহার: চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, যার ফলে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারবে।
৫. ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা: ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্র খুঁজে বের করবে এবং ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে তা ধ্বংস করা হবে।
জব্দ করা তহবিল ফেরত দেওয়া বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, 'পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের লেনদেন হবে না।' এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চুক্তির বিনিময়ে ইরানকে এখনই কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা জব্দ করা তহবিল ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের 'সিচুয়েশন রুম' হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র। এটি মূলত একটি কমান্ড সেন্টার, যেখানে বসে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
