নিউজিল্যান্ডে যেন জেলখানায় আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা
২০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল; ১২ দিনেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলা হয়ে যাবে বাংলাদেশের। কিন্তু সফরটি ১২-১৫ দিনের থাকেনি। করোনাকাল হওয়ায় অতিরিক্ত ১৪ দিন হাতে নিয়ে সফরে যেতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে, সফর দাঁড়িয়েছে ৩৮ দিনের। স্বভাবতই নতুন এই অভিজ্ঞতায় নিজেদের মানিয়ে নিতে সময় লাগছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।
২৪ ফেব্রুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছে হোটেলবন্দি হয়ে পড়তে হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফসহ সফরে যাওয়া সবাইকে। প্রথম পাঁচ দিনে মাত্র দুবার হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ মিলেছে, সেটাও মাত্র ৩০-৪০ মিনিট করে। বাইরেও মানতে হয়েছে বিধি নিষেধ, ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যেই দুই মিটার দূরত্ব রেখে হেঁটেছেন। এরপর আবারও রুমবন্দি।
অবস্থাটা যে সহজ নয়, সেটা জানিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি ভিডিও বার্তায় ডানহাতি এই অলরাউন্ডার বলেছেন, 'বুঝতেই পারছেন কী রকম কাটছে। এই প্রথম হোটেলের ভেতর এভাবে পাঁচ দিন কাটিয়েছি। প্রথম দিকে সময় কাটছিল না। কারও সঙ্গে দেখাই হয়নি।'
'প্রথম তিনদিন তো কারও সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। ফোনে-ফোনে কথা হয়েছে সবার সাথে, ভিডিও কলে কথা হয়েছে রুম টু রুম। প্রথমদিকে বোরিং লাগছিল, সময় কাটছিল না। এখন যেহেতু পাঁচদিন কেটে গেছে, আশা করি আরও তিনদিন কেটে যাবে।' যোগ করেন মিরাজ।
বাকি দিনগুলো কেটে যাওয়ার কথা জানালেও নিউজিল্যান্ড সফর জেলখানার মতো মনে হয়েছে মিরাজের কাছে, 'এরমধ্যে আধা ঘণ্টা করে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছি সবাই। আমি প্রথম যেদিন বেরিয়েছিলাম, শুরুর দিকে মাথা একটু ঘুরছিল। তারপর ১০-১৫ মিনিট পর ঠিক হয়ে যায়। তিনদিন যে ঘরের ভেতর বন্দি ছিলাম, আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে যে জেলখানায় আছি বা হতাশা আছে, এ রকম একটু অনুভূতি হচ্ছিল।'
অল্প সময়ের জন্য হলেও বাইরে বেরিয়ে স্বস্তি পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। মিরাজ বলেন, 'যখন বাইরে বেরিয়ে এলাম, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিলাম, তখন একটু ভালো অনুভূতি হয়েছে। যখন রুমে গেছি, তখন নিজেকে একটু ফ্রেশ মনে হয়েছে। আজও আধা ঘণ্টার জন্য বের হতে পেরেছি। সারাদিন রুমে থাকতে ভালো লাগে না। তিন-চারদিন একইবাবে রুমে কাটানো আমাদের জন্য একটু অস্বস্তির। এই যে ৩০ মিনিটের জন্য বাইরে আসতে দেয়, এটা ভালো লাগে।'
সাতদিনের আইসোলেশনের পর বাইরে যেতে পারবেন মিরাজরা। জিম করাসহ মাঠে নিজেদের মধ্যে অনুশীলন করতে পারবেন তারা। তখনই কেবল ভালো লাগবে বলে জানালেন ডানহাতি এই স্পিনার। মিরাজ বলেন, 'ছয়-সাতদিন পর যখন আমরা জিম এবং মাঠে যেতে পারব, তখন ভালো লাগবে। এখন হয়তো সময়টা কাটছে না। জিমের সুবিধা বা আমরা যদি কিছু ওয়ার্ক করতে পারতাম, তাহলে আমাদের জন্য সহজ হতো, সময়টা কেটে যেত, ফিটনেস ভালো হতো।'
২০ মার্চ ডানেডিনে প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে সিরিজ। ২৩ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। এই ম্যাচটি হবে দিবা-রাত্রির। ২৬ মার্চ ওয়েলিংটনে শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড।
ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। ম্যাচ তিনটি ২৮, ৩০ মার্চ ও ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নেপিয়ার, অকল্যান্ড ও হ্যামিল্টনে টি-টোয়েন্টিতে লড়বে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ দল সর্বশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিল।
