জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন
সারাদেশে ছাত্র সমাজের ৯ দফা দাবি আদায়ে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন সংলগ্ন মহুয়া মঞ্চের সামনে জড়ো হন জাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।
এসময় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন বিভাগের ১০-১৫ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন। মিছিলটি শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে একই স্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার অন্যতম সমন্বায়ক আরিফ সোহেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লিয়নসহ গ্রেপ্তার সব শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও এতে স্বাক্ষর করেন।
কর্মসূচি থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার সমন্বায়ক আব্দুর রশীদ জিতু বলেন, 'আপনারা জানেন সরকারের অনেক মন্ত্রী এবং অনেকেই আমাদের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত যারা শহিদ হয়েছে, নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে, তাদের সম্পর্কে কোনো সহানুভূতির বার্তা না দেখিয়ে তারা আমাদের নিয়ে বিভিন্ন প্রহসন করছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'তারা দিনে নাটক করছে, রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আটক করছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।'
এসময় অবিলম্বে জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার সব শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি ছাত্র সমাজের ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এই সমন্বায়ক।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রব্বানি বলেন, 'সরকার একটি মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই দেশটিতে এখন কোনো গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা আছে এটি মনে করার কোনো কারণ অবশিষ্ট নেই। সরকার আজ পর্যন্ত এত নির্মমতা, এত হত্যাকাণ্ড, এত নির্যাতন, এতো নিপীড়নের পরেও কোনো প্রকার দায় স্বীকার করেনি। অথচ আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি এই সহিংসতা ছড়ানোর পেছনে একজন মন্ত্রীর কী পরিমাণ দায় রয়েছে। তিনি একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার পরেই কিন্তু সংর্ঘষ ছড়িয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এই আন্দোলন এখন আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নেই। এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন হয়ে গেছে।;
তিনি আরও বলেন, 'একটি রাষ্ট্র যখন সংকটে পতিত হয়, একটি রাষ্ট্রের যখন আমূল পরিবর্তনের দরকার হয়, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সৃষ্টিই হয়েছে রাষ্ট্রকে পথ দেখানোর জন্য। রাষ্ট্রের যে ড্যামেজ, তার পূর্ণনির্মাণ করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। সরকারকে বলতে চাই আপনারা যে ভয়ের সংস্কৃতি দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন সেটিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা সত্য স্বীকার করতে শিখুন, ভুল স্বীকার করতে শিখুন। প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার করুন।'
বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীম হোসেন বলেন, 'আমাদের রাষ্ট্র প্রধান যিনি রয়েছেন, তিনি যে সবসময় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন; তিনি তো অনেক আগেই আইয়ুব খানকে ছাড়িয়ে গেছেন। ইয়াহিয়া খান আর তার ছবির মধ্যে এখন আর কোনো পার্থক্য নেই। তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে ধরপাকড় শুরু করেছে, স্বৈরাচারের সঙ্গে এটির অবিকল মিল রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের সময় যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, আজকের ঘটনাগুলোর কাছে সেগুলো একদমই শিশুর মতো। স্বাধীন বাংলাদেশে এত মৃত্যু একসঙ্গে বাংলাদেশে এর আগে কখনো ঘটেনি।'
