২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা তৈরি করছে সরকার: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা অনুযায়ী আরেকটি 'মঞ্চ-পরিচালিত' নির্বাচন করতে চায়।
শনিবার এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য প্রতিবেশি দেশের জন্য ঘুষ হিসেবে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে একটি রাষ্ট্রবিরোধী বিদ্যুৎ চুক্তি সই করেছে।
দেশের সব মহানগর ও জেলায় যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপির ঢাকা দক্ষিণ মহানগর শাখা। ফখরুলের নেতৃত্বে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচিতে দল ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
এসময় বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার সংবিধানকে 'বিকৃত' করেছে এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করেছে।
ফখরুল বলেন, 'এই সরকারের অধীনে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুটি নির্বাচন হয়েছে জনগণের ভোট ছাড়াই… এখন তাদের ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা রয়েছে। সেই নীলনকশা নিয়ে তারা ২০২৪ সালেও একই পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে চায়।'
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে দেশের মালিক মনে করে, আর জনগণ তার প্রজা।
তিনি আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের সঙ্গে প্রজাদের মতো আচরণ করছে। সুতরাং, আমাদের আরও কাজ করতে হবে এবং আমাদের আন্দোলনের জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য আরও জনসমর্থন তৈরি করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি করে তাদের (আ.লীগ) পরাজিত করতে হবে।'
বিএনপির ঢাকা উত্তর মহানগর শাখাও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বাড্ডা এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
বিএনপি ছাড়াও গণতন্ত্র মঞ্চ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণফোরাম ও পিপলস পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোট পৃথকভাবে মানববন্ধন করেছে।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটে লিপ্ত, বিশ্বখ্যাত সংবাদপত্রগুলো তাদের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, "ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। আমরা প্রকাশ্যে বলছি যে এই চুক্তি কোনোভাবেই বাংলাদেশের পক্ষে যেতে পারে না।"
আদানির সঙ্গে চুক্তি বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, 'বিদেশ থেকে অনেকের কাছে প্রশ্ন উঠেছে যে বাংলাদেশ সরকার কীভাবে এই চুক্তি সই করতে পারে? তারা চুক্তিতে সই করেছে, কারণ তারা ঘুষ দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়।'
