‘আমি জানি না কীভাবে কী হলো’
পুরো ইনিংস সাজিয়ে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া বিরাট কোহলির শেষ বলটা খেলা হলো না। তিনি তখন নন-স্ট্রাইক প্রান্তে, ব্যাট হাতে প্রস্তুত রবিচন্দ্রন অশ্বিন। মোহাম্মদ নওয়াজের করা ডেলিভারিটি মিড-অফের উপর দিয়ে পাঠিয়ে এক রান পূর্ণ করে নিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৪ উইকেট জিতলো ভারত, জয় হলো কোহলির।
জয়সূচক রানটি পূরণ করেই হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়লেন কোহলি। গ্লাভস পরা অবস্থাতেই ডান হাতের মুষ্টি দিয়ে চাপড়াতে শুরু করলেন মাটি। হ্যাঁ, এটা উদযাপনের অংশ। এরপর উঠে দাঁড়ালেন, চোখে দেখা গেল আনন্দাশ্রু। যা দেখে ভারতীয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে বলতে থাকলেন, 'কোহলিকে এমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখিনি কখনও।'
সত্যিই তাই, আবেগ খুব একটা ছোঁয় না কোহলিকে। অধিনায়ক থাকাকালে তার আগ্রাসণ ছিল প্রতিপক্ষের জন্য গর্জনের মতো। এখনও রয়ে গেছে তা, পাকিস্তানের বিপক্ষেই তেড়েফুঁড়ে উইকেট উদযাপন করতে দেখা গেছে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানকে। সেই কোহলিই কিনা ম্যাচ জিতিয়ে আবেগাপ্লুত! জানালেন ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না, কীভাবে কী হয়েছে, সেটাও জানেন না।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গিয়ে শুরুতে গ্যালারির চিৎকারে কথা বলতে পারছিলেন না কোহলি। এর মাঝেই তিনি বলছিলেন, 'এটি একটি অপার্থিব পরিবেশ। আমি সত্যিই কথা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি জানি না কীভাবে কী হলো। হার্দিক আমাকে বলছিল, বিশ্বাস রাখতে। বিশ্বাস রাখতে যে, আমরা এটি করতে পারব, শেষ পর্যন্ত থাকতে বলছিল। সত্যিই আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।'
এ সময় ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনার কথা জানান কোহলি। বলেন, 'আমার মনে হয়, যখন শাহিন এই প্রান্ত (প্যাভিলিয়ন প্রান্ত) থেকে এক ওভার বোলিং করল, তখন আমি হার্দিককে বলছিলাম যে আমাদের এখন ওকে আক্রমণ করতে হবে। আমাদের মধ্যে কথোপকথন খুব সাধারণ ছিল। হার্দিক বলছিল, নওয়াজের এক ওভার করতে হবে।'
'আমি বলেছিলাম যে, আমি যদি হারিসকে মেরে খেলতে পারি তাহলে তারা প্যানিক করা শুরু করবে। কারণ হারিস ওদের মূল বোলার। তো আমি দুই ছক্কা হাঁকানোর পর ৮ বলে ২৮ থেকে এটি ৬ বলে ১৬ রানে নেমে আসে। কী বলব! আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার কিছুই বলার নেই (হাসি)।' যোগ করেন কোহলি।
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোহালিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঠিক ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংসই খেলেছিলেন কোহলি। দলকে ৪ উইকেটে জেতানোর ম্যাচে খেলা সেই ইনিংসই এতোদিন তার কাছে ক্যারিয়ার সেরা ছিল। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ইনিংস খেলার পর তা বদলে গেছে।
কোহলি বলেন, 'এতদিন ধরে আমি বলে আসছিলাম যে, মোহালিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংসটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা। সেদিন আমি ৫২ (৫১) বলে ৮২ রান করেছিলাম। আজও ৮২ রান করেছি, ৫৩ বলে। তো এ দুটি একদম একই রকম ইনিংস। তবে আজকের ইনিংসকে আমি ওপরে রাখব ম্যাচের বিশালতার কথা মাথায় রেখে। পরিস্থিতি যেমন ছিল, মনে হচ্ছিল অসম্ভব, কিন্তু এরপর জুটিতে হার্দিক আমাকে সাহস দিচ্ছিল এবং আমরা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাই। আর শেষ পর্যন্ত হয়েও গেল।'
খারাপ সময় গেছে কোহলির, ব্যাট হাতে দীর্ঘদিন রান পাননি তিনি। অনেকে তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন। কিন্তু খেই হারাননি কোহলি, ফিরে এসেছেন স্বমহিমায়। খারাপ সময়ে পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি, 'অবিশ্বাস্য! অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি যখন কিছুটা ধুঁকছিলাম, তখন আপনারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন। আপনারা সব সময় আমার পাশে ছিলেন। আমি এ জন্য কৃতজ্ঞ। অনেক ধন্যবাদ।'
