ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের হামলা অব্যাহত থাকায় কর্মীদের সদর দপ্তর ছাড়ার নির্দেশ সৌদি আরামকোর
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা অব্যাহত থাকায় কর্মীদের প্রধান কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'সৌদি আরামকো'।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পারস্য উপসাগরীয় ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তর খালি করে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছয়টি সূত্রের বরাতে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকায় এই প্রথম প্রধান কার্যালয় খালি করার মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলো অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা কোম্পানিটি।
লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে হুথিরা অগ্রসর হওয়ার পর ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দেয় সৌদি জোট। এরপর থেকে মূলত সৌদির সঙ্গে হুথিরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি আরামকোর তেল স্থাপনা ও সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রধান কার্যালয় সাময়িক বন্ধের এ নির্দেশ এল।
এলএসইজি ডেটা অনুসারে, আরামকো কার্যালয় খালি করার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার সৌদি শেয়ারবাজারের বেঞ্চমার্ক সূচক ২.৫ শতাংশ নিচে নেমেছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের দাম উঠে গেছে গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
ইয়ানবুতে আরামকো ও রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলার দাবি
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এক টেলিভিশন ভাষণে দাবি করেছেন, লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু শহরের আরামকো স্থাপনা এবং রাজধানী রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন করে হামলা চালিয়েছে তাদের যোদ্ধারা। তবে রিয়াদ এখনও এই হামলার সত্যতা স্বীকার করেনি।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার রিয়াদ এবং ইয়ানবুর কাছে অবস্থিত মদিনা শহরের আকাশে কয়েকটি ড্রোন শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ের এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতিটি কার্যত ভেঙে পড়ল। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ধাহরানে আরামকো ভবনে সরাসরি হামলা চালায় হুথি। এ সময় ভবনের কয়েকটি তলায় আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর থেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব।
হুথি মুখপাত্র দাবি করেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইয়েমেনে সৌদি হামলায় অন্তত ৫৬২ জন হতাহত হয়েছে। এছাড়া জাবাল জুকার দ্বীপের কাছে আক্রান্ত ১৪ জন ভারতীয় নাবিকসহ একটি নৌকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এর পেছনেও সৌদি বাহিনীর হাত রয়েছে।
সৌদির বিমানবন্দরে হামলা ও বিশ্ববাজারে তেলের দর বৃদ্ধি
ধাহরানের কাছে পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হুথিদের ড্রোন হামলায় এক সৌদি ও এক ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হন।
সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) জানায়, সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও দাম্মাম বিমানবন্দরে বর্তমানে বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। তবে রাজধানী রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুমকি দিয়ে রেখেছে হুথিরা।
সংঘাত আরও বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স-এ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩.০৬ ডলার বেড়ে ১১১.৮৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা বিগত মে মাসের পর সর্বোচ্চ।
