হুথিদের আক্রমণ থেকে সৌদিকে রক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য
সৌদি আরবের ওপর আকাশপথে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বিপুল সামরিক বাজেট নিয়েও এই আক্রমণের মুখে দিশেহারা দেশটি। এই অবস্থায়, সৌদির প্রতিরক্ষায় এগিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্য, এবং রিয়াদে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদিতে মোতায়েন করা রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো সম্পূর্ণ 'প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা' পালন করবে এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, "টাইফুন ফাইটার জেটের মাধ্যমে আকাশপথের হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক আকাশ টহল মিশন পরিচালনা করবে।"
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায় যে, এই সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি বিমানবাহিনীর জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহ সুবিধাও (এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং) দেওয়া হবে।
ইয়েমেনের অনসারুল্লাহ আন্দোলন (যা হুথি নামে পরিচিত) এবং সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে এই সামরিক সহায়তার ঘোষণা এলো।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোটও ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, "আমাদের মিত্র দেশ সৌদি আরবের ওপর হুথিদের অব্যাহত হামলা একেবারেই জঘন্য ও নিন্দনীয়। বিশেষ করে, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে হুথিরা কত দূর যেতে পারে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "সেই কারণেই আজ আমি অতিরিক্ত ব্রিটিশ সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছি। টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সৌদির আকাশসীমা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক মিশন চালাবে। এটি হুথি হামলা মোকাবেলায় দেশটিতে আগে থেকে মোতায়েন করা যুক্তরাজ্যের সামরিক সরঞ্জাম ও কর্মীদের সুরক্ষাকবচকে আরও শক্তিশালী করবে।"
লন্ডন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্যামিল নেডলেক জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির বৈশ্বিক উদ্বেগ অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, "উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটে, তা সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়ির রান্নার গ্যাস ও বিদ্যুৎ খরচে আঘাত হানে। একই সাথে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে।"
দু'দিন আগেই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য মিশরের পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। কিন্তু, পার্লামেন্ট এই সহায়তা অনুমোদনের ওপর ভোটাভুটি দ্বিতীয় দিনের মতো স্থগিত করেছে। এর ঠিক একদিন পরেই লন্ডনের তরফ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হলো।
সৌদি আরবের অনুরোধের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ওই ভোটাভুটি আগামী ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বলে মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
