এআই চিপের তুমুল চাহিদায় রপ্তানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন রেকর্ড, প্রথমবারের মতো ১২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রপ্তানি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর চিপের বৈশ্বিক চাহিদার জোয়ারে ভর করে এক মাসে পণ্য রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
বৃহস্পতিবার দেশটির শুল্ক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে বার্ষিকভিত্তিতে দেশটির রপ্তানি ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১২০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; যা গত জুনে হওয়া আগের মাসিক রেকর্ড ১০২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে।
কোরিয়া কাস্টমস সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই এসেছে চিপ খাত থেকে। আলোচ্য সময়ে চিপ রপ্তানি ২৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৬০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে দেশটির মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের রেকর্ড রপ্তানি ৭০৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারকেও ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। বছরের এই প্রথম নয় মাসে দক্ষিণ কোরিয়া ৪৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে।
এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী কিম জিয়ং-কোয়ান বলেন, 'এটি একটি মূল্যবান অর্জন, যা আবারও আমাদের শিল্প ও কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা প্রমাণ করে। বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা আমাদের উদ্যোক্তাদের ঘাম ও প্রচেষ্টার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'যদিও আমরা বার্ষিক রপ্তানিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্জনের প্রত্যাশা করছি, তবে বৈশ্বিক সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আমাদের রপ্তানিকে প্রভাবিত করার মতো প্রধান নিয়ামক হিসেবে রয়ে গেছে।'
এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি এ বছর তীব্র প্রবৃদ্ধির মুখ দেখছে। এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম এই অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কেন্দ্রস্থল, যার নেতৃত্বে রয়েছে শীর্ষস্থানীয় মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ'-এর তথ্য অনুযায়ী, এসকে হাইনিক্স এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স যৌথভাবে উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমোরির (এইচবিএম) বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ডায়নামিক র্যান্ডম-অ্যাক্সেস মেমোরির (ডি-র্যাম) প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
রপ্তানির এই উল্লম্ফনে গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশটির নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালে প্রকৃত জিডিপি ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে; যা করোনা মহামারির ব্যতিক্রমী বছরগুলো বাদ দিলে ২০১৭ সালের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অর্জন হবে।
এআই প্রযুক্তির এই উত্থান দেশটির পুঁজিবাজারকেও চলতি বছরের সেরা পারফর্মিং শেয়ারবাজারগুলোর কাতারে নিয়ে গেছে। এতে দেশটির প্রধান শেয়ারবাজার সূচক 'কসপি' বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
