আবাসন সংকট নিয়ে বিক্ষোভের মুখে নভেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর
আবাসন সংকট নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
তিনি জানান, আগামী ২৯ নভেম্বর দেশটিতে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদের মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাসেরও বেশি আগে শেষ হবে।
সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির (পিএসওই) নেতা সানচেজ মাদ্রিদে তার সরকারি বাসভবন মনক্লোয়ায় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, 'রাষ্ট্রপ্রধানকে জানানোর পর আমি আজ সকালে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডেকে সংসদ ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
আবাসন সংকট নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় গত সপ্তাহে এ সংকট মোকাবিলায় দুটি আইন প্রস্তাব করে সানচেজের সরকার।তবে আট বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা সানচেজের প্রস্তাবিত আইনগুলো সংসদে আটকে দেয় ডানপন্থী দলগুলো।
এর মধ্যে মাদ্রিদের রেতিরো এলাকার ৮৭ বছর বয়সী বাসিন্দা মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে, যিনি স্পেনে মারিকারমেন নামে অধিক পরিচিত, উচ্ছেদের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তার ঘটনা দেশটির আবাসন সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়।
অবশেষে পরিস্থিতি নিজের হাতে নিতে সানচেজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মারিকারমেন ৭০ বছরের বেশি সময় একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু তার বাড়িভাড়া ৫০০ ইউরো থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ ইউরো হওয়ায় তাকে উচ্ছেদ করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। স্পেনের আবাসন সংকটের নির্মমতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শত শত মানুষ আবাসন সংকটের প্রতিবাদে মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল এলাকায় অবস্থান করছেন। স্পেনের অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভ আয়োজনে যুক্ত সংগঠনগুলোর একটি মাদ্রিদ টেন্যান্টস ইউনিয়ন দাবি করেছে, গত শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টায় সানচেজ আবাসন সংকটের ওপর গুরুত্ব দেবেন। তবে প্রস্তাবিত আবাসন সংস্কারের বিরোধিতা করা রক্ষণশীল পপুলার পার্টি জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।
সানচেজ সোমবার বলেন, 'আমাদের নতুন করে জনসমর্থন অর্জন করতে হবে। জনগণকে আমাদের সংগঠিত করতে হবে এবং সংসদে আরও বড় প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। যাতে আমরা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে, নতুন সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এবং স্পেনকে পরিবর্তনের কাজ অব্যাহত রাখতে পারি।'
সানচেজের সোশ্যালিস্ট পিএসওই পার্টি এ বছর আঞ্চলিক নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ধাক্কা খেয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জড়িয়ে একের পর এক দুর্নীতির কেলেঙ্কারিও দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
গ্রীষ্মে সেউতাকে কেন্দ্র করে অভিবাসন সংকটও সমালোচনা আরও বাড়িয়েছে। ওই সময় মরক্কোর সীমান্তবর্তী স্পেনের ভূখণ্ডে কয়েক হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছিল।
সানচেজ বলেন, 'আমি জানি, সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠদের একটি অংশের মধ্যে এখন অসন্তোষ রয়েছে। সংসদে অল্প কয়েকজনের স্বার্থে তাদের স্বার্থ পদদলিত হতে দেখে আপনারা ক্ষুব্ধ।'
আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি স্বীকার করেন, তার সরকার কিছু 'ভুল' করেছে। তবে তিনি বলেন, সরকার দেশের বাইরে থেকে আসা নজিরবিহীন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পেন ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
