সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরও দিল্লি পুলিশের বলপ্রয়োগ: রক্তাক্ত আন্দোলনকারী, সাংবাদিকসহ আটক ১০০
বেআইনি আটকের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এতে আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, অন্তত তিনজন সাংবাদিককসহ অন্তত ১০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লিজুড়ে ফের চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নামে একাধিক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার রাজধানীর সেন্ট্রাল জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃতদের মধ্যে একটি জাতীয় দৈনিক ও ডিজিটাল বার্তা সংস্থার সাংবাদিক এবং ক্যামেরা পারসন রয়েছেন। রাইসিনা রোডের প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া (পিসিআই)-এর বাহির, কনট প্লেস এবং আরকে আশ্রম মার্গ থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সামনে থেকেই আটক করা হয় ৭০ জনের বেশি আন্দোলনকারী।
কনট প্লেস থেকে আটককৃতদের নিয়ে যাওয়া একটি বাসে দুজন সাংবাদিকের পাশাপাশি অন্তত দুজন আহত ও রক্তাক্ত আন্দোলনকারীকে দেখা যায়। দুটি বাসে গাদাগাদি করে তুলে প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এমনকি বার্গারের দোকান থেকে এক ব্যক্তিকে আন্দোলনকারী সন্দেহে পুলিশ টেনে বের করার ঘটনা ঘটে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানান তিনি সেখানে কেবল দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পুলিশের সাথে যাবেন না; পরবর্তীতে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত একাধিক ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা সেন্ট্রাল দিল্লির একাধিক পয়েন্টে আজ জমায়েত হয়ে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ পরিচালনা করেন।
আন্দোলনকারীরা মূলত নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের দাবি, ভোটার তালিকার এই বিতর্কিত সংশোধনের কারণে প্রায় ১৩ কোটি যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ও তালিকাচ্যুত হয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।
