হরমুজ প্রণালী ছাড়ছে আটকে পড়া তেলের ট্যাংকার, বিশ্ববাজারে যুক্ত হচ্ছে নতুন সরবরাহ
জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত উপাত্তে দেখা গেছে, ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে আটকে পড়া তিনটি বড় ট্যাংকার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ছেড়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ট্যাংকার এশিয়ার দিকে রওনা হয়েছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির পর –- পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা তেল সরবরাহ উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও কমতে শুরু করেছে।
এলএসইজি এবং কেপলারের উপাত্ত অনুযায়ী, কাতার থেকে নেওয়া কনডেনসেট এবং আবুধাবির অপরিশোধিত তেলসহ ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি নিয়ে 'ভিএল ব্রিজ' নামের একটি দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী 'ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার' (ভিএলসিসি) হরমুজ প্রণালী পার হয়ে কোরিয়ার দেসানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সুপারট্যাংকারটি ভাড়া করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠান হুন্দাই অয়েলব্যাংক।
শিপিং ডেটায় আরও দেখা যায়, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (আইওসি) ভাড়া করা ২০ লাখ ব্যারেল সৌদি তেলবাহী অন্য একটি ভিএলসিসি ট্যাংকার 'প্লাটা ক্যারিয়ার' হরমুজ প্রণালী থেকে বের হয়ে আসছে। এর পাশাপাশি ইরাকের বসরা থেকে নেওয়া ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে ওমানের সোহার বন্দরের দিকে যাচ্ছে সুয়েজম্যাক্স শ্রেণির ট্যাংকার 'প্রুডেন্ট ওয়ারিয়র'। এই দুটি জাহাজই লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হুন্দাই অয়েলব্যাংক এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (আইওসি) কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জ্বালানিখাত বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার এবং ভরটেক্সা গত সপ্তাহে হিসাব করে জানিয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ও অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরের ভেতরে প্রায় ৯ কোটি (৯০ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আটকে ছিল।
বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার নৌ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির শিপিং কোম্পানিগুলোর পরিচালনায় থাকা চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী থেকে বের হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ দক্ষিণ কোরিয়ায় এবং বাকিগুলো অন্য দেশে যাচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে আটকে পড়া ২৬টি জাহাজের মধ্যে ১৮টি এখনো পারস্য উপসাগরে রয়ে গেছে।
জাহাজগুলো নিরাপদ প্রস্থানের জন্য ওমান ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তৈরি করা সাময়িক সামুদ্রিক করিডোর ব্যবহার করে চলাচল করছে কি না, তা অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওমান জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপ ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত রাখবে। এই অঞ্চল থেকে বিদায় নেওয়া জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দেশটি বিদ্যমান নৌপথের উত্তর ও দক্ষিণে দুটি সাময়িক রুট বা পথ নির্ধারণ করে দিয়েছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নেওয়ার জন্য 'শানডং রেডউড' এবং 'মিলাহা কাতার' নামের দুটি খালি এলএনজি ট্যাংকারকে সর্বশেষ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এর ফলে কাতার থেকে নতুন করে গ্যাস নেওয়ার জন্য হরমুজ প্রণালী পার হওয়া খালি এলএনজি জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত সর্বোচ্চ।
বুধবার প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় এই দেশ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের স্বাভাবিক এলএনজি উৎপাদন ও সরবরাহ পুনরায় শুরু করবে।
