সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার মাঝেই ইরানে হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
একদিকে সুইজারল্যান্ডে যখন শান্তি চুক্তির আওতায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'লেবাননে ইরানের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সিরা যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে আমরা ইরানের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাব—ঠিক যেমনটি গত সপ্তাহে চালিয়েছিলাম, তবে এবার হবে তার চেয়েও ভয়াবহ!'
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তিনি মূলত সেটিরই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টক-এ শান্তি আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়। এক সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করা। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে মার্কিন মিত্র ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ চালায়।
তবে ইরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুক্তিতে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রোববারের এই আলোচনা ইরানর পরমাণু কর্মসূচির মতো মৌলিক কোনো বিষয়ে হবে না।
শান্তি বৈঠকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা মুখোমুখি হন। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লেবাননের সহিংসতাকে কিছুটা খাটো করে দেখার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দিনে সেখানে যুদ্ধ বন্ধের পথে অগ্রগতি হয়েছে। পরিস্থিতির জটিলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এই ধরনের বিষয়গুলো সব সময়ই কিছুটা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ হয়।'
গত শুক্রবার লেবাননে নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে শনিবার ইরান জানায়, তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে টানা চার মাস এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটেছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের তথ্য ভিন্ন কথা বলছে। ইরানের ঘোষণার পর মাত্র একটি ছোট ট্যাঙ্কার সংকেত চালু রেখে প্রণালিটি পার হয়েছে, যেখানে গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন জাহাজ চলাচল করছিল। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইরান আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানকে প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক সুবিধা না দেওয়া পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত পরবর্তী ধাপের কোনো আলোচনা শুরু হবে না।
এদিকে আলোচনার ফাঁকে রোববারের শুরুতে জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন। সেখানে অত্যন্ত উষ্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গনের সময় ভ্যান্সকে 'হোয়াটস আপ ম্যান?' বলতে শোনা যায়। জবাবে আসিম মুনিরও উইটকফকে আলিঙ্গন করে 'মাই ব্রাদার' বলে সম্বোধন করেন।
