ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত নরওয়ের রাজকন্যার ছেলে, ৪ বছরের কারাদণ্ড
নরওয়ের রাজকন্যার ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবিকে দুটি ধর্ষণের অভিযোগসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, একজন ভুক্তভোগী নারীর সুরক্ষায় হোইবির বিরুদ্ধে দুই বছরের জন্য একটি নিষেধাজ্ঞা বা চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় তিন মাস আগে শুরু হওয়া এবং ছয় সপ্তাহব্যাপী বহুল আলোচিত বিচার কার্যক্রমের পর সোমবার সকালে ওসলো আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
বিচারক ইয়ন স্ভেরদ্রুপ এফিয়েস্তাদ তার সাবেক প্রেমিকা নোরা হাউকল্যান্ডকে নির্যাতনের অভিযোগে হোইবিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে একমাত্র নোরা হাউকল্যান্ডের নামই প্রকাশ্যে এসেছে। আদালত হোইবিকে হাউকল্যান্ড এবং আরও তিন নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগে হোইবি খালাস পেয়েছেন।
হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল চারটি ধর্ষণের অভিযোগ, হামলার অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং যানবাহন চালানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ। পরে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একটি অভিযোগ বাতিল করা হয়।
২৯ বছর বয়সী হোইবি তার বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো, বিশেষ করে ধর্ষণের অভিযোগ, অস্বীকার করেছিলেন। তবে তুলনামূলক কম গুরুতর কিছু অপরাধের কথা তিনি স্বীকার করেছিলেন। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন, হোইবি কারাগার থেকেই ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন। সে অনুযায়ী তিনি ইলা কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে হোইবির সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড চেয়েছিল। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে ধর্ষণের অভিযোগগুলো থেকে তাকে খালাস দেওয়া উচিত এবং যেসব অপরাধ তিনি স্বীকার করেছেন সেগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ১৮ মাসের বেশি সাজা দেওয়া উচিত নয়।
ধর্ষণের অভিযোগগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে ঘিরে। প্রতিটি ঘটনায় অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই নারীরা হয় ঘুমিয়ে ছিলেন, নয়তো অত্যন্ত অক্ষম বা অসহায় অবস্থায় ছিলেন।
এই বিচার নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য একটি কঠিন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারণ, হোইবির মা রাজকন্যা মেতে-মারিত গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। একই সঙ্গে অতীতে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে জনসমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
গত সপ্তাহে অসলো আদালত হোইবিকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছিল। তিনি ৩ ফেব্রুয়ারি বিচার শুরু হওয়ার কিছু আগে থেকে আটক ছিলেন। তার মায়ের ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষার সময় তিনি যেন মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে পারেন, সেই কারণেই মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল। তবে পরে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।
এই বিচার নরওয়ে এবং দেশের বাইরেও ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সোমবার রায় ঘোষণার আগে আদালত সকাল সাড়ে সাতটায় খোলার আগেই সাংবাদিকেরা আদালতের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।
