আদালতের নির্দেশের পর কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলা হলো
আদালতের নির্দেশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারের সামনের অংশ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।
একটি আইনি আবেদনে এই পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুটি (সাংস্কৃতিক কেন্দ্র) জানিয়েছে, তারা আদালতের নির্দেশ পুরোপুরি মেনে চলেছে। ভবনের দেয়াল, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো নথিতে এখন আর ট্রাম্পের নাম নেই।
গত মাসে একজন ফেডারেল বিচারক রায় দেন যে বেআইনিভাবে এই ভবনে প্রেসিডেন্টের নাম যুক্ত করা হয়েছিল। তিনি ১২ জুন এর মধ্যে নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শুক্রবার দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যেই ট্রাম্পের নাম মোছার কাজ শুরু করেন কর্মীরা। তবে বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে শনিবার ভোর পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে হয়। এর আগে শেষ মুহূর্তে আদালতের এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের করা একটি আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।
কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন নিয়ে তৈরি আইনি বিবাদ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত।
শুক্রবার কেনেডি সেন্টারের বাইরে ছোট একটি সমাবেশ করে 'হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস' নামের একটি সংগঠন। শিল্পের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদ করতেই তারা এই সমাবেশ করে।
কর্মীরা যখন ভবনের নামফলক থেকে ট্রাম্পের নাম মোছার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিরা উল্লাস করেন। ওই সংগঠনের এক নেতা যখন মেগাফোনে কথা বলছিলেন, তখন সবাই 'টেক ইট ডাউন' (নামিয়ে ফেলো) বলে স্লোগান দেন।
পরে আরেক আয়োজক যখন ঘোষণা করেন যে বিচারকের আদেশ আটকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় আবেদনটিও আপিল আদালত খারিজ করে দিয়েছেন, তখন ভিড়ের মধ্যে উল্লাস শুরু হয়।
শনিবার ভোরে কর্মীরা কাঠামোর ওপর লম্বা প্লাস্টিকের শিট ঝুলিয়ে দেন, যাতে অক্ষরগুলো সরানোর কাজ বাইরে থেকে দেখা না যায়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ওই প্লাস্টিকের শিট দিয়ে কেনেডি সেন্টারের সাইনবোর্ডটি ঢাকা ছিল।
গত মে মাসের শেষের দিকে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দিয়েছিলেন যে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই ভেন্যুর নাম পরিবর্তন করা যাবে না।
এ ছাড়া আসন্ন প্রস্তাবিত সংস্কারকাজের সময় সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেও তিনি স্থগিতাদেশ দেন।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেখিয়েছিল যে এখন নাম পরিবর্তন করা হলে পরে যদি সিদ্ধান্ত উল্টে যায়, তবে তা চরম বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
গত বছর ট্রাম্প এই প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেন্টারের বোর্ডে থাকা বেশ কয়েকজন ট্রাস্টিকে সরিয়ে দেন এবং নিজেকে একজন ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করেন। পরে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি এই শিল্পকেন্দ্রের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন।
