ইরানের নতুন কৌশল: বৈরুতে হামলা হলে, ইসরায়েলে আঘাত হানবে তেহরান
মধ্যপ্রাচ্য সংকট এক নতুন ও জটিল মোড় নিয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষে প্রথমবারের মতো ইরানি সামরিক বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সংঘাত এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তেহরান এখন একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে: 'তোমরা যদি বৈরুতে হামলা করো, তবে আমরা আঘাত হানব ইসরায়েলে।'
মূলত ইরান এখন লেবানন এবং ইরানের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোকে একই সূত্রে বাঁধার চেষ্টা করছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশল হলো এই রণক্ষেত্রগুলোকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করা। তেহরান মনে করছে, লেবানন ও ইরানের ফ্রন্ট এক থাকলে ইসরায়েলের ওপর চাপ বজায় রাখা সহজ হবে।
এই লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন সম্প্রতি একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যেখানে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েল সরকার সরাসরি আলোচনায় বসেছে। তবে এই আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এই আলোচনার প্রস্তাব ও প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, আঞ্চলিক এই সংকটের যেকোনো টেকসই সমাধানের জন্য সব ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। কোনো একটি নির্দিষ্ট ফ্রন্টকে বাদ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। ইরানের এই নতুন সমীকরণ—'বৈরুতে হামলা মানেই ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত'—অঞ্চলটির যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলতে পারে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছে লেবানন সরকার। একদিকে হিজবুল্লাহ ও ইরানের অনড় অবস্থান, অন্যদিকে ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলা—সব মিলিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে লেবানন সরকারকে এক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
