যে কারণে ‘#১৬৮’ খোদাই করা ল্যাপেল পিন পরে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ভেন্যুতে ইরানি দল
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তবে গত রোববার (৭ জুন) মেক্সিকোর টিজুয়ানায় অবতরণের পর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাদের পোশাকে থাকা বিশেষ একটি প্রতীক।
দলের প্রতিটি সদস্যের জ্যাকেটে দেখা গেছে সোনালি রঙের একটি 'ল্যাপেল পিন', যাতে খোদাই করা ছিল '#১৬৮' সংখ্যাটি।
মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় একটি স্কুলে প্রাণ হারানো নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ইরানি খেলোয়াড়রা এই প্রতীকী প্রতিবাদ বেছে নিয়েছেন।
কী ঘটেছিল সেই স্কুলে
পিনের ওপর খোদাই করা এই সংখ্যাটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো ১৬৮ জন ভুক্তভোগীর স্মারক। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিশু। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সেই হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছিল স্কুলটি। যদিও স্কুলটি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির কাছাকাছি ছিল বলে জানা গেছে।
হাঙ্গেরিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে মিনাব ট্র্যাজেডির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা
মিনাবের ওই ঘটনার পর এটিই ইরানি দলের প্রথম প্রতিবাদ নয়। এর আগে গত মার্চ মাসে তুরস্কের আন্টালিয়ায় একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও তারা ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সে সময় জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় খেলোয়াড়রা পিঠে গোলাপি ও বেগুনি রঙের স্কুলব্যাগ বহন করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান
স্কুলে হামলার ওই ঘটনায় জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর তারা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালায় না।
