শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই'র অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতিতে দুর্নীতির অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল 'ককোরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। শনিবার (৩০ মে) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে এই অভিনব প্রতিবাদ জানান দলটির সমর্থকরা।
বিক্ষোভস্থলে জড়ো হয়ে সিজেপি-র নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, 'ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও'। অন্য একটিতে লেখা ছিল, 'আমরা 'মেক ইন ইন্ডিয়া' চেয়েছিলাম, আপনি আমাদের 'লিক ইন ইন্ডিয়া' দিয়েছেন।'
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিত দিপকে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি বোস্টন থেকে সরাসরি দিল্লিতে আসেন। যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর সময় দিপকের হাতে ভারতের সংবিধানের প্রণেতা ড. বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি দেখা যায়।
'তেলাপোকারা আসছে, শিক্ষামন্ত্রী যাচ্ছেন'
বিক্ষোভের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তারা লেখে, 'ভারতের সংবিধানের পূর্ণ সমর্থনে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে তেলাপোকারা আমাদের বিক্ষোভ শুরু করবে।'
পরবর্তীতে দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়। অনুমতি পাওয়ার পর সিজেপি এক্সে আরেকটি পোস্টে লেখে, 'দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে... তেলাপোকারা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন [ককরোচেস আ রাহা হ্যায়, ধর্মেন্দ্র প্রধান যা রাহা হ্যায়]'
ভারতে একের পর এক পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই এই অভিনব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। প্রশ্ন ফাঁসের জেরে বাতিল হওয়া নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষাটি আগামী ২১ জুন পুনরায় আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বাদশ শ্রেণীর ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে সিবিএসই'র অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টালের ত্রুটি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নিট পরীক্ষা বিতর্কের পর থেকে দিল্লির বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছেন। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে আটক করেছিল ভারতের পুলিশ।
