মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ায় কানাডীয় এলএনজির দিকে ঝুঁকছে ইউরোপ
ইউরোপের বেশ কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (ইউটিলিটি) কানাডার 'খি লিসিমস এলএনজি' প্রকল্পের উৎপাদিত গ্যাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এটি হতে যাচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির জন্য কানাডার দ্বিতীয় বৃহৎ প্ল্যান্ট বা স্থাপনা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রকল্পের প্রধান অংশীদার 'ওয়েস্টার্ন এলএনজি'-এর প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, খি লিসিমস এলএনজি প্ল্যান্টের বার্ষিক ৫০ লাখ টন গ্যাস উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যেই অফটেক বা অগ্রিম ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন গ্যাস বিক্রির প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে চায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খি লিসিমস প্লান্টের বার্ষিক মোট উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১ কোটি ২০ লাখ টন অতি-শীতলীকৃত গ্যাস। এই অতিরিক্ত ক্রয় প্রতিশ্রুতিগুলো নিশ্চিত হয়ে গেলেই প্রকল্পটি চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাবে।
রয়টার্সকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার কিছুদিন আগেই খি লিসিমস জার্মানির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'এসইএফই'-এর কাছ থেকে একটি অগ্রিম ক্রয় বা অফটেক প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে; যা মূলত দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বিশেষভাবে গঠন করা হয়েছিল। ইউরোপীয় কোনো কোম্পানির কাছ থেকে খি লিসিমস এলএনজি প্রকল্পের এটিই প্রথম চুক্তি। নিষেধাজ্ঞাভুক্ত নয় এবং পারস্য উপসাগরীয় কোনো দেশ থেকে আসেনি—ইউরোপ যখন হন্যে হয়ে এমন নিরাপদ গ্যাসের উৎসের সন্ধান করছে, ঠিক তখনই কানাডার সঙ্গে এই চুক্তির কথা হচ্ছে।
চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে, খি লিসিমস এলএনজি প্ল্যান্ট দুটি ভাসমান প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্যাস উৎপাদন করবে। এর লক্ষ্য থাকবে কার্বন নিঃসরণের হার সর্বনিম্ন রাখা, যা কানাডার ফেডারেল সরকারের অগ্রাধিকারের সাথে সংগতিপূর্ণ। অবশ্য সম্প্রতি দেশটির নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, যেখানে নিজেদের খনিজ হাইড্রোকার্বন সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়টিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই এলএনজির মূল বাজার হবে প্যাসিফিক বেসিন বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্য করে প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে, কারণ এশিয়ায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তা সত্ত্বেও, ইউরোপীয় জ্বালানি ক্রেতাদের সাথে চলমান এই আলোচনা জোরালোভাবে ইঙ্গিত দেয়, তাদের ভবিষ্যতের বাজারের পরিকল্পনা বেশ নমনীয় এবং এই গ্যাস সেখানেই যাবে—যেখানে এর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গ্যাস বিক্রেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় আমদানিকারকদের সামনে যেহেতু খুব বেশি বিকল্প খোলা নেই, তাই মূল্যের বিষয়টি বড় করে না দেখে, যেখানে প্রয়োজন সেখানেই এই গ্যাস পাঠানো হতে পারে।
