আমিরাতের তেল কেন্দ্রে ইরানের ড্রোন হামলা; যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুই জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে: সেন্টকম
ইরানের ড্রোন হামলায় আরব আমিরাতের পেট্রোলিয়াম কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা আমিরাতের একটি পেট্রোলিয়াম শিল্প কেন্দ্রে ইরানের ড্রোন হামলার পর 'বিশাল অগ্নিকাণ্ড' ঘটেছে। ফুজাইরার মিডিয়া অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ড্রোনগুলো মোকাবিলা করছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, "প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে, দেশের বিভিন্ন অংশে যে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করার ফল।"
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইরান থেকে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত (ইন্টারসেপ্ট) করা সম্ভব হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে।
এর আগে ফুজাইরা মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয় যে, ইরান থেকে আসা ড্রোন হামলার পর আমিরাতের পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় একটি বড় ধরনের আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী উচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে হামলাগুলো প্রতিহত করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুই জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে: সেন্টকম
মার্কিন পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
পরে এক্সে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) লিখেছে, "বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আমেরিকান বাহিনী সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।''
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করবেন, এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার একদিন পর বাণিজ্যিক জাহাজ দুটির এই জলপথ অতিক্রম করার দাবি করল মার্কিন বাহিনী।
তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সম্প্রতি কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি। তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে 'ভিত্তিহীন' ও 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলে উল্লেখ করেছে।
আজ সোমবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, তাদের নৌবাহিনীর ঘোষিত নীতির বিরুদ্ধে কোনো জাহাজ বা নৌ যান চলাচল করলে তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা সতর্ক করেছে, কোনো জাহাজ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে জোর করে থামিয়ে দেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
যুদ্ধও নেই, চুক্তিও নেই: হরমুজ পাহারা দিয়ে জাহাজ পার করার কৌশল ধরেছেন হতাশ ট্রাম্প!
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের 'যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়'—এমন স্থবিরতায় চরম বিরক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি হরমুজ প্রণালিতে এক বিশেষ সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত পুরোদস্তুর যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একজন মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছেন, 'প্রেসিডেন্ট অ্যাকশন চান। তিনি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে রাজি নন। তিনি ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চান এবং একটি চূড়ান্ত দফায় পৌঁছাতে চান।'
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস
ইরান যুদ্ধ ও তেল সংকট: এশিয়ায় 'ভয়াবহ প্রভাব' নিয়ে উদ্বেগ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায়—বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে 'ভয়াবহ প্রভাব' পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
আজ সোমবার (৪ মে) তার অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তাকাইচি এই মন্তব্য করেন। সফরকালে দুই দেশ জ্বালানি এবং অতি-প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করেছে।
সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ইরান এই কৌশলগত নৌপথটি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার খবর 'ভিত্তিহীন': সেন্টকম
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো যুদ্ধজাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সোমবার (৪ মে) ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এটিকে 'ভিত্তিহীন' বলে উল্লেখ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে কোনো আমেরিকান রণতরীতে হামলার ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' সফল করতে কাজ করছে এবং একইসঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ কার্যকর রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজে ঢোকার চেষ্টা করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে ঢুকতে চেষ্টা করা মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা 'ফারস নিউজ'।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, জাস্ক দ্বীপের কাছে ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) থামার নির্দেশ উপেক্ষা করায় ওই রণতরী লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ঘোষণার পর এই হামলার খবর পাওয়া গেল। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ দেখিয়ে বের করে আনতে আগামী সোমবার থেকে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
