ভারতের রান্নার গ্যাস সংকট দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে ব্যাহত হওয়া তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক হতে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা। এতে চলমান সংকট থেকে ভারতের পুনরুদ্ধার আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল-কে বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত এলপিজি সরবরাহকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন বছর লাগতে পারে, এমনকি এর চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।"
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতে আসা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ আটকে পড়েছে। এতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ ভারতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল দেশটিতে এর সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
ভারত তার এলএনজির ৪৫ শতাংশ এবং এলপিজির ২০ শতাংশ আমদানি করে কাতার থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ছোট দেশটিই ভারতের মতো বৃহৎ দেশের এ দুই জ্বালানির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী।
গত মাসে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান—কাতারএনার্জি জানায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের উৎপাদন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির এলপিজি রপ্তানি প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা মেরামত করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করে।
ভারত সরকারের ওই কর্মকর্তা মানিকন্ট্রোল-কে বলেন, "এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে এত সময় লাগতে পারে, কারণ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। 'বন্ধ' বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে তা পুরোপুরি স্পষ্ট করেনি কাতার। সব কূপ নিঃশেষ হয়ে গেছে নাকি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে–সেটা উল্লেখ করেনি। তবে তারা নিজেরাই বলছে অন্তত তিন বছর লাগবে।"
ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করে থাকে। আর দেশটির মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাধা পড়ার প্রভাব সরাসরি ভারতের ভোক্তাদের ওপর পড়েছে।
সংকটের মধ্যেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছু ভারতীয় এলপিজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পারি দিয়ে আসতে পেরেছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের রুট বন্ধের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে এলপিজির সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে এলপিজির সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য বেশি গ্যাস বরাদ্দ দিচ্ছে। পাশাপাশি, এলপিজি সিলিন্ডারের বিকল্প হিসেবে নগর গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে।
