ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের; সংঘাত অবসানে পাকিস্তানে ৪ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২৯ মার্চ) ৩০তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
কাতার লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত
কাতার জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের সামরিক বাহিনী ইরান থেকে আসা 'সবগুলো ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।'
জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ইরানি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধাসামরিক বার্তা সংস্থা ইসনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মোয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় সেখানকার সেনাদের আবাসন এবং সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই বিমানঘাঁটিটি ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর জন্য একটি 'মূল অপারেশনাল প্ল্যাটফর্ম' হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
দক্ষিণ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিকাণ্ড: বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
রোববার বিকেলে দক্ষিণ ইসরায়েলের নেওত হোভভ শিল্প এলাকায় একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ লিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাসায়নিক পদার্থ লিক হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে নিকটস্থ রামাৎ নেগেভ রিজিওনাল কাউন্সিল এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কোনো বড় ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট শকওয়েভে একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ ৪০ নম্বর মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। রিজিওনাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জনগণকে ওই এলাকায় চলাচলের জন্য বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হোম ফ্রন্ট কমান্ড ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখতে এবং জানালাগুলো ভালোভাবে আটকে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানে পাকিস্তানে ৪ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার তার তিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন।
ইসলামাবাদে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী চতুর্মুখী এই সম্মেলনের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ইশাক দার। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, দুই নেতা বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ, কূটনীতি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উভয় স্তরে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে ইশাক দার ইরান পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। তারা দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরায় নিশ্চিত করেন। শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা সংলাপ, উত্তেজনা কমানো, কূটনীতি এবং নিয়মিত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইশাক দার মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আতির সঙ্গেও বৈঠকে বসেন। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে চলমান ইরান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মিসাইলের মুখে 'শত মাইল' পিছু হটেছে মার্কিন রণতরি 'আব্রাহাম লিঙ্কন', দাবি ইরানের
ইরানের এক নৌ-কমান্ডার এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই কমান্ডার বলেছেন যে ইরান মার্কিন বাহিনীর রেঞ্জের ভেতরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে এবং তাদের উপকূলীয় মিসাইল সিস্টেমের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ইরানি ওই কমান্ডার আরও দাবি করেছেন যে, ইরানের মিসাইল অপারেশন এবং সামরিক তৎপরতার কারণে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' তাদের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ভারতের পথে এলপিজি গ্যাসের ট্যাঙ্কার
ভারতগামী প্রায় ৯৪,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি বোঝাই দুটি ট্যাঙ্কার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি ক্যারিয়ার এ সপ্তাহেই মুম্বাই বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের পতাকাবাহী এই জাহাজগুলো সম্প্রতি এই সংকীর্ণ নৌপথ পার হতে সক্ষম হওয়া সর্বশেষ দুটি জাহাজ। এলএসইজি শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত মোট চারটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে এবং আরও তিনটি ট্যাঙ্কার বর্তমানে প্রণালীর পশ্চিম অংশে অবস্থান করছে।
ভারত সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে মোট ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক পশ্চিম উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন টন এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করেছে। দেশটির মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
সৌদির ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের 'ফ্লাইং রাডার' বিমান ধ্বংস করল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক 'ফ্লাইং রাডার' বিমান ধ্বংস হয়েছে।
ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং একাধিক সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ই–৩ সেন্ট্রি বিমানও রয়েছে, যা আকাশভিত্তিক সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে বর্তমানে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত ই–৩ সেন্ট্রি বিমানের সংখ্যা মাত্র ১৬টি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি ই–৩ সেন্ট্রি বিমান তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় হয়।
এই বিমান যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শত শত মাইল দূর থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য বিমান শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিমান কমান্ডারদের যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক চিত্র সরবরাহ করে এবং সেই অনুযায়ী সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে হুমকি প্রতিহত করার নির্দেশনা দিতে সহায়তা করে।
মুখে আলোচনার কথা বলে 'গোপনে স্থল হামলার ছক' কষছে আমেরিকা: ইরানের স্পিকার
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, মার্কিন সেনাদের মোকাবিলা করতে তার দেশের বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গালিবফ অভিযোগ করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে গোপনে স্থল হামলার ছক কষছেন।
তিনি বলেন, 'শত্রু পক্ষ প্রকাশ্যে আলোচনার বার্তা পাঠাচ্ছে এবং গোপনে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের বীর যোদ্ধারা মার্কিন সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ইরানি মাটিতে পা রাখামাত্রই তাদের পুড়িয়ে মারা হবে।'
বাহরাইন ও আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক শিল্প-সংশ্লিষ্ট কারখানায় হামলার দাবি আইআরজিসি-র
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ও মহাকাশ গবেষণা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত দুটি কারখানায় হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই দুই কারখানা লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে তারা।
একটি বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, 'পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো থেকে আমাদের মাতৃভূমির শিল্পকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা-জায়নবাদী শত্রুরা। তাদের সেই বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপের জবাবেই আইআরজিসির নৌবাহিনী এবং এরোস্পেস ফোর্স এই যৌথ ও সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়েছে।'
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু দুটি হলো আরব আমিরাতের এমিরেটস অ্যালুমিনিয়াম (এমাল) ও বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (অ্যালবা) কারখানা।
আইআরজিসি বলেছে, বিশ্বের দীর্ঘতম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী অবকাঠামো রয়েছে এমাল কারখানায়। এর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৩ লাখ টন। অন্যদিকে অ্যালবা কারখানায় একাধিক মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ ও শেয়ার রয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে এই কারখানাটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের হুমকির জবাবে এখন থেকে আর 'চোখের বদলে চোখ' নীতি মেনে চলবে না ইরান। বরং শত্রুরা যে মাত্রায় আক্রমণ করবে, তার চেয়ে অনেক বেশি জোরালো ও প্রাণঘাতী আঘাত হানা হবে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর।
যুদ্ধে হুথিদের প্রবেশ: এবার হুমকির মুখে বাব আল-মান্দাব প্রণালি
গত এক মাস ধরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শনিবার তেহরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি সামনে চলে এসেছে।
হুথিরা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হামলা চালাতে পারে। ইয়েমেন ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
হরমুজ প্রণালির মতোই বাব আল-মান্দাব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এই পথে যাতায়াতের কঠিন চ্যালেঞ্জের কারণে একে 'অশ্রুর দুয়ার' বলা হয়। এর সবথেকে সরু অংশটি মাত্র ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল) চওড়া, যার ফলে বড় পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখানে সহজেই হামলার শিকার হতে পারে।
প্রণালির পূর্ব উপকূল নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা আগেও এমনটি করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে তারা ১০০টিরও বেশি জাহাজে আঘাত করেছিল।
তবে হরমুজ প্রণালির সাথে এর একটি পার্থক্য হলো, বাব আল-মান্দাব এড়ানোর বিকল্প পথ আছে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলো আফ্রিকা ঘুরে যাতায়াত করতে পারে। তবে এটি লজিস্টিক বা খরচ ও সময়ের দিক থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক মুইউ শু সিএনএনকে বলেন, 'উদাহরণস্বরূপ, সুয়েজ খাল ও বাব আল-মান্দাব হয়ে রটারডাম থেকে সিঙ্গাপুর পৌঁছাতে প্রায় ২৭ দিন সময় লাগে। কিন্তু আফ্রিকা ঘুরে গেলে এই যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৪০ দিন।'
যদিও এই প্রণালিটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো থেকে দূরে অবস্থিত, তবুও এটি বন্ধ হয়ে গেলে তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় সৌদি আরব বর্তমানে তাদের তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি শুরু করেছে। কিন্তু লোহিত সাগরের দক্ষিণ দিকের এই প্রবেশপথটি (বাব আল-মান্দাব) বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষক মুইউ শু জানান, তখন জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল দিয়ে পশ্চিম দিকে গিয়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে এশিয়ায় সৌদি তেল পৌঁছাতে হবে। এতে চীন পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ৫০ দিন সময় লাগবে, যা বাব আল-মান্দাব দিয়ে যাওয়ার সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
ফোনালাপে পেজেশকিয়ানকে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত করলেন শাহবাজ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চালানো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অবগত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এক ফোনালাপে তিনি এসব তথ্য জানান।
বর্তমানে আঙ্কারা ও কায়রোর সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফোনালাপে দুই নেতা অঞ্চলের চলমান সংঘাত ও শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানান, তিনি নিজে, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় এবং অন্যান্য ইসলামি দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, শান্তি আলোচনার জন্য একটি 'অনুকূল পরিবেশ' তৈরি করা।
অস্ত্রের মজুতে টান, রেশনিং করে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে ইসরায়েল
চার সপ্তাহ ধরে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পাল্টা জবাবে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছুড়ছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ভান্ডারে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক মিসাইল-প্রতিরোধী অস্ত্র বা 'ইন্টারসেপ্টর' ব্যবহারে রেশনিং শুরু করেছে ইসরায়েল। সেগুলোর মজুত ধরে রাখতেই ব্যবহারে রাশ টেনেছে তারা।
সম্প্রতি দিমোনা ও আরাদ শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল। তুলনায় কিছুটা কম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ওই হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল ইসরায়েল। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলজুড়ে হামলা হয়েছে। একাধিক জায়গায় আছড়ে পড়েছে মিসাইল, যা স্থানীয়দের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ইরান যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক
ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। আজ রোববার ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক গুরুত্বপূর্ণ চার-পক্ষীয় বৈঠক।
মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আজই ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করা এই সংঘাত এখন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা ও সীমান্ত স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সংকট নিরসনে এই চারটি দেশ সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান এই কূটনীতিতে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
তবে এই বৈঠক থেকে খুব দ্রুত কোনো সমাধান আসবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ সাঈদ সিএনএনকে বলেন, 'এই আলোচনা থেকে খুব দ্রুত কোনো যুগান্তকারী ফলাফল বা ব্রেকথ্রু আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।' তবে তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা বা শর্ত পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সৌদি আরব যদি কিছু শর্ত দেয় এবং ইরান তাতে রাজি হয়, তবে ভবিষ্যতে সংকট সমাধানে সৌদিরা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবে।
রোববার বিকেল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশেপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনাটি সোমবার পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি হামলার পর কমান্ড সেন্টারগুলোকে ভ্রাম্যমাণ ঘাঁটিতে সরাচ্ছে ইরান: আইডিএফ
যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের একাধিক কমান্ড সেন্টারে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষার (আইডিএফ) দাবি, সেই হামলার জেরেই গত কয়েক দিন ধরে নিজেদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রধান কার্যালয়গুলোকে ভ্রাম্যমাণ অবকাঠামোতে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইরান।
আইডিএফ বলছে, গতকাল তেহরানে জোরালো হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। সে সময় এই ধরনের বেশ কয়েকটি অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়কে নিশানা করে বোমাবর্ষণ করা হয়।
ইসরায়েলি সেনার দাবি, হামলার সময়ে ওই অস্থায়ী ঘাঁটিগুলো থেকেই সামরিক কাজকর্ম পরিচালনা করছিলেন ইরানের কমান্ডাররা।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানের আরও ২০ জাহাজ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান
কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ থাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানের পতাকাবাহী আরও ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে ইরান। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইরানের এই পদক্ষেপকে একটি 'গঠনমূলক উদ্যোগ' হিসেবে অভিহিত করে এর প্রশংসা করেছেন।
ইসহাক দার বলেন, এটি শান্তির এক বিশেষ বার্তা এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, 'আলোচনা, কূটনীতি এবং এ ধরণের আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।'
ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি আইআরজিসির
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
রবিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, অন্তত দুটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলের ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বেশ কিছু ইরানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে।
সংগঠনটি ওই অঞ্চলের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের ক্যাম্পাস থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন সরকারকে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার নিন্দা জানাতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে হামলার পরিধি দুটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও হামলা রোধ করতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই মিত্র বাহিনীকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে হবে।'
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে বেশ কিছু নামী মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে। এর মধ্যে কাতারে টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ও নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি অন্যতম।
ইরানে কয়েক সপ্তাহের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কর্মকর্তারা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য স্থল অভিযানটি কোনো 'পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ' হবে না। এর পরিবর্তে বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল ফোর্সেস) এবং 'সাধারণ পদাতিক বাহিনী'র মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান বা রেইড চালানো হতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার কতটুকু অনুমোদন দেবেন বা আদৌ দেবেন কি না, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েলের রাডার সেন্টার ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরানের
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), সেনাবাহিনী এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের মিত্ররা গত শনিবার ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের প্রেস টিভি আক্রান্ত হওয়া লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলসহ বিভিন্ন স্থানে 'ইসরায়েলি-আমেরিকান শত্রুদের' বেশ কিছু শিল্প-কারখানা লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে কঠিন ও তরল উভয় ধরনের জ্বালানিচালিত ব্যবস্থা ছিল।
ইরান আরও দাবি করেছ, তাদের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী ইসরায়েলের হাইফা বন্দর নগরে একটি সামরিক মহাকাশ কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি 'এলটা' পরিচালিত একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এ ছাড়া, তেল আবিবের ডেভিড বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি মজুত কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইসরায়েলে হুথিদের দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা আজ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দ্বিতীয় দফা হামলা পরিচালনা করেছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর (হুথি গোষ্ঠী) মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের 'বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা' লক্ষ্য করে তারা একঝাঁক 'ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন' ছুড়েছে।
সারি আরও জানান, এই হামলাগুলো ইরান ও হিজবুল্লাহর চলমান সামরিক অভিযানের সাথে 'একই সময়ে' চালানো হয়েছে এবং এটি 'সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে'। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'অপরাধী শত্রু পক্ষ তাদের আক্রমণ ও আগ্রাসন বন্ধ না করা পর্যন্ত' আগামী দিনগুলোতেও এ ধরণের হামলা অব্যাহত থাকবে।
হুথিদের পক্ষ থেকে আজ প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা পরই দ্বিতীয় দফা এই হামলার খবর এল। এর আগে ইসরায়েলি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমে হুথিদের নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
আজ দিনের শুরুর দিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে তারা ইয়েমেন থেকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হুথিরা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল।
মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন কয়েক হাজার নৌ ও মেরিন মার্কিন সেনা
ইরান যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর নতুন সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হাজার হাজার মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। শনিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর–এর উদ্যোগে এই মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে সেনারা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় অবস্থান নেবেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি তার 'দায়িত্বের এলাকায়' পৌঁছেছে। যদিও জাহাজটির নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, ইউএসএস ত্রিপোলির দায়িত্বের এলাকা উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ইউএসএস ত্রিপোলি মধ্যপ্রাচ্যে জলে ও স্থলে যুদ্ধ পরিচালনায় সক্ষম একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেবে। জাহাজটির নেতৃত্বাধীন ইউনিটে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধজাহাজটি জাপানের আশপাশের অঞ্চলে অবস্থান করছিল।
