পশ্চিম তীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৩ ফিলিস্তিনি নারী নিহত, আহত ১৩
ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে নারীদের একটি হেয়ার সেলুনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা সম্ভাব্য কোনো গোলা আছড়ে পড়ায় তিন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে হেব্রনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বেইত আওয়্যা শহরের ওই সেলুনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো আঘাত হানলে ওই তিন নারী প্রাণ হারান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওয়াফা আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝআকাশে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোগুলো ওই সেলুনে আঘাত হেনেছে। এছাড়া হেব্রন প্রদেশের অন্যান্য স্থানেও এমন ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স, চিকিৎসাকর্মী এবং পিএ-র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিস্ফোরক প্রকৌশলী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিতদের চিকিৎসা দেয় এবং এলাকাটি সুরক্ষিত করে। ওয়াফা জানিয়েছে, হামলার সময় স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার এবং পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি রোরি শ্যালান্ডস জানিয়েছেন, এর আগে ইরানি বিমান হামলার ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলো আহত হওয়া বা সম্পত্তির ক্ষতির শিকার হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। শ্যালান্ডস বলেন, 'আজ রাতে সেই চিত্র বদলে গেল।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা যতটুকু বুঝতে পেরেছি, একটি মিসাইল বোমলেট, অর্থাৎ এসব ক্লাস্টার মিউনিশন বা সাব-মিউনিশনের একটি অংশ সেখানকার নারীদের একটি সেলুনের ওপর পড়ে, যার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।'
এদিকে, বুধবার ইসরায়েলের শ্যারন অঞ্চলের মোশাভ আদানিম এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন বিদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া কাছাকাছি আরব-ইসরায়েলি শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের শার্পনেলের (টুকরো) আঘাতে বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোরি শ্যালান্ডস আরও জানান, তেল আবিবে একটি আট তলা ভবনে আঘাত হানার পর সেখানে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা 'ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম' জানিয়েছে, তেল আবিব থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২.৪ মাইল) উত্তর-পূর্বে মোশাভ আদানিম এলাকায় নিহত ওই ব্যক্তিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধাতব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
২০ দিন আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান প্রতিদিন ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। তবে তেহরান ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলি দখলদারিত্বে থাকা ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে, এমন কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বেশিরভাগ ইসরায়েলির কাছে 'বোম্ব শেল্টার' বা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা থাকলেও, অধিকৃত ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিদের কাছে তুলনামূলক কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। হামলার সতর্কতা হিসেবে তাদের অনেকেই কেবল কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলি শহর বা বসতিগুলোর সাইরেনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি এবং মার্কিন বাহিনী তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর ফলে সৃষ্ট এই আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানে অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।
