ট্রাম্পের আশ্বাসের পরও তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর শঙ্কা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (১১ মার্চ) এগারোতম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা।
এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে রোববার মোজতবা খামেনিকে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান।
ট্রাম্পের আশ্বাসের পরও তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর শঙ্কা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা আশ্বাস সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'কেপলার'-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান আমেনা বকর সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'যদি হরমুজ প্রণালী এভাবে অবরুদ্ধ হয়ে থাকে, তবে মার্চের শেষ নাগাদ তেলের দাম সহজেই ১৫০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।'
সম্প্রতি ট্রাম্প এই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়ায় তেলের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। তবে আমেনা বকর সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক। কারণ, নিরাপত্তার অভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনী নিরাপত্তা [এসকর্ট] দেবে। কিন্তু বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই কথায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফেরেনি।
আমেনা বকর আরও বলেন, 'ট্রাম্প সংঘাত অবসানের কথা বলছেন বলেই জাহাজগুলো রাতারাতি সাহসী হয়ে ওঠেনি। তারা এখনই ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালী পার হতে চাইছে না। ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার কোনো লক্ষণ নেই।'
হরমুজ প্রণালী হবে শান্তির, নয়তো যুদ্ধবাজদের পরাজয়ের পথ: লারিজানি
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি। তিনি বলেছেন, এই জলপথটি হয় সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নতুবা 'যুদ্ধবাজদের' জন্য চরম পরাজয় ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আজ (১০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি এই মন্তব্য করেন।
এর আগে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেগুলোকে সামরিক পাহারায় (এসকর্ট) নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত ইরানি হামলায় ওই অঞ্চলের বেশ কিছু জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তারা এই সরু কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।
সাবধান থাকুন, যেন আপনিই না ধ্বংস হয়ে যান: ট্রাম্পের 'ফাঁকা হুমকি'র জবাবে লারিজানি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি। ট্রাম্পের ওই হুমকিকে 'ফাঁকা' বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করা অব্যাহত রাখে, তবে ওয়াশিংটন দেশটির ওপর '২০ গুণ বেশি শক্তিশালী' হামলা চালাবে।
ট্রাম্পের সেই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লারিজানি লিখেছেন, 'ইরানের জনগণ আপনার এই "ফাঁকা হুমকিকে" ভয় পায় না।'
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে লারিজানি আরও বলেন, 'আপনার চেয়েও বড় বড় শক্তিরা ইরানিদের নির্মূল করতে এসে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সাবধান থাকুন, যেন আপনিই না ধ্বংস হয়ে যান।'
যেকোনো মধ্যস্থতার জন্য ভবিষ্যতে আর হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা চায় ইরান
কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, ইসরায়েলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর আক্রমণ হবে না—যেকোনো মধ্যস্থতার জন্য এই 'গ্যারান্টি' দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি।
তিনি বলেছেন, 'কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং আক্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে এবং এরকমটা আর হবে না—এই শর্তের ভিত্তিতেই' যেকোনো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা করতে পারে।
ইরানের দেশের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাতেমা বলেছেন, 'এটা আমাদের সাধারণ মানুষের জোরালো দাবি, তাদের এই নিশ্চয়তা প্রয়োজন। আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি, কিন্তু আমরাই এর ইতি টানব।'
আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ 'ব্যর্থ', আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার দেশের ওপর চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে 'ব্যর্থ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আরাগচি বলেন, 'তাদের প্ল্যান-এ ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন তারা অন্য পরিকল্পনা নিয়ে চেষ্টা করছে, কিন্তু সেগুলোও একইভাবে ব্যর্থ হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মনে কোনো সুনির্দিষ্ট 'শেষ লক্ষ্য' নেই এবং সে কারণেই তারা আবাসিক এলাকাগুলোতে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তারা তেলের দাম আকাশচুম্বী করে দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, 'আমি তাদের এমন কোনো যৌক্তিক লক্ষ্য দেখছি না যা তারা অনুসরণ করছে। শুরুতে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন ১০ দিন পর আমার মনে হচ্ছে তারা পুরোপুরি লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে।'
আব্বাস আরাগচি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা বা দরকষাকষি এখন আর তেহরানের আলোচ্যসূচিতে নেই। এর আগে কয়েক দফার পারমাণবিক আলোচনায় 'অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতার' কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, 'আমেরিকানরা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আমাদের ওপর আক্রমণ করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তারা ইরানের পারমাণবিক সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও সমঝোতামূলক সমাধান চেয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।'
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমি মনে করি না যে আমেরিকানদের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার বিষয়টি আর কখনো আমাদের বিবেচনায় আসবে।'
প্রতিবেশী ইরানে হামলার জেরে পাকিস্তানে বায়ুদূষণের সতর্কতা
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ফলে সৃষ্ট দূষণে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বাতাসের মান খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি)।
সোমবার এক বার্তায় পিএমডি জানিয়েছে, 'ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে বাতাস দূষণকারী কণা বয়ে আনতে পারে, যা পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর বায়ুর মানের অবনতি ঘটাবে।' আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, ১২ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের পশ্চিমাংশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
ইরাকের কুর্দিস্তানে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি-র জনসংযোগ শাখা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুর্দিস্তানের এরবিলে অবস্থিত 'হারির বিমান ঘাঁটিতে' মার্কিন সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ওই সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মোট পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এই হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯১ ইসরায়েলি আহত
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল' জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
এর আগে গত সোমবার ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় শহর ইয়েহুদে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
'এক লিটার তেলও যাবে না', হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেল অবরোধ চলবে: ইরান
ইরানের বিপ্লবী গার্ড মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে 'এক লিটার তেলও' জাহাজে পাঠাতে দেবে না।
এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে রপ্তানি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরও ভয়াবহ আঘাত হানবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন সোমবার বিশ্ব আর্থিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পেছনে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং তারা সহজে পিছু হঠতে রাজি নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি বিমান, আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রতিরক্ষার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে একটি সামরিক নজরদারি বিমান মোতায়েনের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তবে অস্ট্রেলিয়া ইরানে কোনো স্থলসেনা পাঠাবে না বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার এই সামরিক সহায়তা উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের উসকানিবিহীন হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে সহায়তা করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়া এই সংঘাতে কোনো পক্ষের হয়ে জড়াচ্ছে না।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমাদের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এটি একদিকে যেমন ওই অঞ্চলে থাকা অস্ট্রেলীয়দের সুরক্ষার জন্য, তেমনি আমাদের বন্ধু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষার জন্যও জরুরি।'
আলবানিজ জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা সুরক্ষায় প্রাথমিকভাবে চার সপ্তাহের জন্য বোয়িং নির্মিত ই–৭এ ওয়েজটেইল আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম–সজ্জিত একটি বিমান মোতায়েন করা হবে।
লেবাননে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭ লাখ মানুষ, ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মানবিক সংকট
লেবাননে চলমান সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় সাত লাখে দাঁড়িয়েছে।
লেবাননের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হানিন সায়েদ জানিয়েছেন, প্রায় ৭ লাখ মানুষ সরকারের মানবিক সহায়তা পোর্টালে বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন পর্যন্ত ৫৬০টিরও বেশি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।
এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, এই সংকট শুরুর পর থেকে তারা এখন পর্যন্ত ২ লাখ মানুষের কাছে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানপন্থি হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এর জের ধরে গত কয়েক দিন ধরে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন শহরতলিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে ইরানকে '২০ গুণ শক্তিশালী' আঘাতের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথ সচল রাখতে প্রয়োজনে ইরানকে এযাবৎকালের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী সামরিক হামলার শিকার হতে হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, 'ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এ পর্যন্ত চালানো হামলার চেয়ে অন্তত ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী আঘাত হানবে।'
তিনি আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'এছাড়া আমরা ইরানের এমন সব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করব যা একটি জাতি হিসেবে দেশটিকে পুনর্গঠন করা কার্যত অসম্ভব করে তুলবে। তাদের ওপর মৃত্যু, অগ্নি ও ধ্বংসের তাণ্ডব নেমে আসবে। তবে আমি আশা ও প্রার্থনা করি যেন এমন কিছু না ঘটে।'
ট্রাম্প তার এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার রক্ষার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেন। একে চীন এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোর জন্য 'যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি উপহার' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, 'আশা করছি এই পদক্ষেপটি সবাই ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করবে।'
ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার আভাসে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ 'খুব শিগগিরই' শেষ হবে—এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে 'ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল'-এর (অপরিশোধিত তেল) দাম প্রায় ৮.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯২.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দামও প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৮৮.৬০ ডলারে নেমেছে। তবে এই দরপতনের পরও তেলের বর্তমান দাম সংঘাত শুরু হওয়ার আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
মূলত সোমবার ট্রাম্পের দেওয়া এক বক্তব্যের পর তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। তিনি বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ 'খুব শিগগিরই' শেষ হয়ে যাবে।
'যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই যুদ্ধের সমাপ্তি ঠিক করবে': আইআরজিসি
যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, 'যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই যুদ্ধের সমাপ্তি ঠিক করবে'।
আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে 'ডাহা মিথ্যা' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন 'ভুয়া সামরিক সাফল্য' সাজানোর চেষ্টা করছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী নায়েইনি ঘোষণা করেন, 'এই যুদ্ধের সমাপ্তি আমরাই নির্ধারণ করব।'
নায়েইনি আরও বলেন, 'আমরা জানি আপনাদের গোলাবারুদ শেষ হয়ে আসছে এবং আপনারা এখন সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন। কেন আপনারা মার্কিন জনগণের কাছে সত্য বলছেন না? ট্রাম্প চান না আমেরিকানরা জানুক যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সব মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।'
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমে যাওয়ার দাবিও নাকচ করে দেন নায়েইনি। তিনি জানান, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোর তুলনায় এখন আরও বেশি সংখ্যায় এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে, যেগুলোর একেকটি ওয়ারহেডের ওজন এক টনেরও বেশি।
জ্বালানি তেলের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে হামলাকারী এবং তাদের সহযোগীদের কাছে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণের পশ্চিমা চেষ্টাগুলো কেবল 'সাময়িক ও নিষ্ফল' হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ 'খুব শিগগিরই' শেষ হবে: ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ 'খুব শিগগিরই' শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করা গত ১০ দিনের যুদ্ধকে তিনি 'স্বল্পমেয়াদি সফর' হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আভাস দিলেও ইরানকে একটি বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করা অব্যাহত রাখলে আরও ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি কোনো সন্ত্রাসী সরকারকে বিশ্বকে জিম্মি করতে এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করতে দেব না। ইরান যদি তেমন কিছু করার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী আঘাত হানা হবে।'
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের হুমকির অবসান ঘটাচ্ছে এবং পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী তেলের ট্যাংকারগুলোর জন্য 'রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা'র সুবিধা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, 'প্রয়োজনে আমরা নিরাপত্তার জন্য সেগুলোর পাশাপাশি অবস্থান করব।'
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'আজ থেকে আমরা জানি ড্রোন তৈরির সব কারখানা কোথায় অবস্থিত এবং সেগুলোতে একের পর এক আঘাত করা হচ্ছে।' তিনি দাবি করেন, ইরানের 'ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা' বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ বা তারও নিচে নেমে এসেছে।
