স্থানীয় সিনেমার জনপ্রিয়তায় দ্বিতীয় বছর ১০০ মিলিয়ন রিয়াল আয় করল করল সৌদি চলচ্চিত্র
২০২৬ সালে স্থানীয় বক্স অফিসে সৌদি চলচ্চিত্র ১০০ মিলিয়ন রিয়ালের বেশি আয় করেছে, যা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এ মাইলফলক অতিক্রম করল। এমন তথ্য জানিয়েছে সৌদি চলচ্চিত্র কমিশন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মোট বক্স অফিস আয়ের প্রায় ১২.৭ শতাংশ হয়েছে সৌদি চলচ্চিত্রগুলো থেকে। এতে স্থানীয় গল্পের প্রতি দর্শকদের অব্যাহত চাহিদা এবং সিনেমা হলে সৌদি নির্মিত চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির চিত্র স্পষ্ট।
কমিশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৌদি বক্স অফিস ১৬ মিলিয়ন রিয়াল আয় করেছে এবং ৫৯টি চলচ্চিত্রের বিপরীতে ৩ লাখ ২৯ হাজার ২০০টিরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে কিংডমজুড়ে সিনেমা হলগুলোতে তিনটি সৌদি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে: অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র "৭ ডগস", অ্যাকশন-কমেডি "অ্যাক্স সির" এবং অ্যানিমেটেড ফিচার "আজ্জাম: দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট"।
চলতি বছরের এই সাফল্য স্থানীয় সিনেমার জন্য বিগত এক রেকর্ডভাঙা বছরের ধারাবাহিকতা। কমিশনের ২০২৫ সালের বক্স অফিস রিপোর্ট অনুযায়ী, ১১টি সৌদি চলচ্চিত্র ২.৮ মিলিয়ন টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ১২২.৬ মিলিয়ন রিয়াল রাজস্ব আয় করে।
যদিও সে বছর প্রদর্শিত ৫৩৮টি চলচ্চিত্রের মধ্যে সৌদি চলচ্চিত্রের হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি, তবুও মোট বক্স অফিস আয়ে এগুলো প্রায় ১৩ শতাংশ অবদান রেখেছে। তিনটি স্থানীয় চলচ্চিত্র বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী শীর্ষ ১০টি মুক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছিল: "আল-জারফা", "শাবাব আল-বোম্ব ২", এবং "হোবাল"।
চলচ্চিত্র শিল্পের এই প্রবৃদ্ধি মূলত ২০১৬ সালে শুরু হওয়া ব্যাপক পরিবর্তনের অংশ, যা 'সৌদি ভিশন ২০৩০' চালু করার মাধ্যমে সূচিত হয়। এতে সংস্কৃতি ও বিনোদনকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই বছর দেশটিতে বিনোদন খাতকে নিয়ন্ত্রণ ও বিকশিত করতে 'জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটি' প্রতিষ্ঠিত হয়।
কয়েক দশকের অনুপস্থিতির পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে সৌদি আরবে বাণিজ্যিক সিনেমা হল পুনরায় চালু হয়। চলচ্চিত্র খাতকে উন্নত করা, সৌদি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সহায়তা করা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিবেশকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১১টি বিশেষায়িত সাংস্কৃতিক কমিশনের অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'ফিল্ম কমিশন' গঠিত হয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত 'কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড'-এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তার পরিধি আরও বিস্তার লাভ করে। ২০২৩ সালে তহবিলটি প্রযোজনা, পরিবেশনা এবং সিনেমার অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ৮৭৯ মিলিয়ন রিয়াল বাজেট নিয়ে 'ফিল্ম সেক্টর ফাইন্যান্সিং প্রোগ্রাম' চালু করে।
