ধর্ষণের মামলায় বান্দরবানে এনসিপি নেতা কারাগারে
বান্দরবানে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে এক মারমা নারী বান্দরবান সদর থানায় শৈক্যসিং মারমা বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্ত শৈক্যচিং মার্মা বান্দরবান সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা মংশৈপ্রু মারমা ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নারীর পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি শহরে বসবাস করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দূর সম্পর্কের দুলাভাই। স্বামীর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর অভিযুক্ত এনসিপি নেতা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার পরিচালিত বান্দরবান শিশু পার্কের পাশের সাইনি রিসোর্টে নিয়ে গত পাঁচ মাসে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন ওই নারীকে রিসোর্টে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর একসাথে দুপুরের খাবার খান। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। শারিরীকভাবেও নির্যাতন করা হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন রিসোর্টে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা এনসিপি আহবায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী বলেন, 'জেলা দলের যুগ্ম আহবায়ককে গতকালের ঘটনায় জেলা এনসিপি অত্যন্ত বিভ্রান্ত। দলের গঠন তন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, 'ভুক্তভোগী নারী অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বান্দরবান সদর মধ্যম পাড়া নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।'
