আগে একবার পালিয়েছিলেন, সেই আসামি আবারও পালালেন আদালত থেকে
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস থেকে কৌশলে হাতকড়া খুলে মো. শরিফুল ইসলাম (২৮) নামের এক আসামি আবারও পালিয়ে গেছেন। এর আগে, ২০২৫ সালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যান একই আসামি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পালিয়ে যান এই আসামি।
ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'ঘটনা সত্য। আজকে একটা মামলায় হাজিরা জন্য তাকে আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়। তার হাতে হাতকড়া পড়ানো ছিল। কৌশলে আসামি পালিয়ে যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'এর আগে এই আসামি একবার পালিয়ে গেছেন। আজকে সেই মামলায় হাজিরার জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।'
পালানো আসামি সম্পর্কে পুলিশের দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-১৭(৬)/২৫, ধারা-২২৪ পেনাল কোডের আসামি মো. শরিফুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। সিএমএম আদালতের ডিউটি বণ্টন অনুযায়ী কনস্টেবল মো. আব্দুল আলিম আসামিকে সকাল ১০ টা ২৫ মিনিটে সিএমএম ৭ নম্বর আদালতে হাজির করেন। আসামিকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে আটকানো হয়।
আরও বলা হয়, পরে কনস্টেবল আদালতের বারান্দায় অবস্থান করলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আসামি আদালত থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এজলাসের কাঠগড়ার শিকের সঙ্গে হ্যান্ডকাফ ঝোলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। আসামিকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে কৌশলে পালিয়ে যায় মো. শরিফুল ইসলাম। ঘটনার দিনই হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর একই বছরের ১ অক্টোবর ভোরে ফেনী রেলস্টেশন এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
আসামি শরিফুল দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহম্মেদের ছেলে।রাজধানীর খিলগাঁও থানার জিসান হোসেন (১৪) হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি শরিফুল ইসলাম। বর্তমানে ওই মামলাটি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
