চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিকের ৯ কনটেইনার অপসারণ শুরু, ধ্বংস করা হবে নারায়ণগঞ্জে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার এবং কনটেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে বন্দরে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা ১৫০.৮৯ টন মেয়াদউত্তীর্ণ ও অব্যবহারযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে ধ্বংস করার জন্য এসব রাসায়নিক নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের বিশেষ উদ্যোগে ৯টি কনটেইনারে রাখা এসব রাসায়নিক অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, অপসারণ করা ৯টি কনটেইনারের মধ্যে ২৫.৫৫ টন সালফিউরিক এসিড, ০.৫ টন নাইট্রিক এসিড, ৯২.৫৪ টন মিথানল এবং ৩২.৩০ টন থিনার রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ জানান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এসব রাসায়নিক নিরাপদে ধ্বংস করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কনটেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে ৯টি কনটেইনারে জমে থাকা ১৫০.৮৯ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।'
আজ সকাল আনুমানিক ১০টায় কাস্টমসের পণ্য ধ্বংসকরণ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এবং পুলিশ স্কোর্টের অধীনে রাসায়নিক বহনকারী যানবাহনগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় অবস্থিত 'ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড'-এর কারখানায় পরিবেশবান্ধব ও আইনি নীতি মেনে এসব রাসায়নিক বিনষ্ট করা হবে।
উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক বন্দরে পড়ে থাকায় নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল এবং ইয়ার্ডের মূল্যবান জায়গা দখল করে রেখেছিল।
এই অপসারণ ও ধ্বংসকরণ কার্যক্রমটি কাস্টমস হাউসের পণ্য ধ্বংসকরণ কমিটি এবং বিএনএসিডব্লিউসি-এর যৌথ ও সমন্বিত উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
পুরো কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা প্রদান করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বিস্ফোরক পরিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবহন ও রাসায়নিক ধ্বংসের প্রতিটি ধাপে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
