তেলের দাম বাড়তেই রাজধানীতে বাস-লেগুনায় বাড়তি ভাড়া, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর একদিনের মধ্যেই রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও রাইডশেয়ারিংয়েও অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ এই ভাড়া বৃদ্ধিতে চরম চাপে পড়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর প্রবেশমুখ চিটাগং রোড, সাইনবোর্ড, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ থেকে চলাচলকারী বাস ও লেগুনায় রুটভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। চিটাগং রোড থেকে গুলিস্তানগামী বাসে ভাড়া বেড়েছে ৫ টাকা। নারায়ণগঞ্জ ও সাইনবোর্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া মৌমিতা ও ঠিকানা পরিবহনে বিভিন্ন স্টপেজ অনুযায়ী ৫-১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাইনবোর্ড থেকে চলাচলকারী অনাবিল ও লাভলি পরিবহন এবং যাত্রাবাড়ী থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী লোকাল বাসগুলোতেও ৫ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে শর্ট-রুটের লেগুনায়। চিটাগং রোড থেকে যাত্রাবাড়ীগামী লেগুনার ভাড়া ৫ টাকা বেড়েছে; পূর্বে যা ২০ টাকা ছিল তা এখন ২৫ টাকা এবং ২৫ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
দূরপাল্লার রুটেও লেগেছে এর প্রভাব। সায়েদাবাদ থেকে খুলনা, বরিশাল, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরগামী বাসে ৫০ টাকা পর্যন্ত এবং চট্টগ্রামগামী লোকাল বাসে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
হঠাৎ ভাড়া বাড়ায় অতিরিক্ত খরচের চাপে পড়েছেন প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষেরা। এতে মাস শেষে পরিবহন ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। নওয়াবপুরের কৃষি মার্কেটে কর্মরত যাত্রী শুভ বলেন, 'প্রতিদিন কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার জন্য বাস ব্যবহার করতে হয়। একদিনের মধ্যে ভাড়া ৫-১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। অল্প বেতনে কাজ করি, মাস শেষে এই অতিরিক্ত খরচ আমাদের জন্য চাপ হয়ে যাবে।'
নূর হোসেন নামে আরেক যাত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, 'আগে যে ভাড়া দিতাম, এখন তার সঙ্গে ৫-১০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। কিছু বললে কন্ডাক্টর বলে তেলের দাম বাড়ছে আমাদের কিছু করার নেই। কিন্তু এত দ্রুত ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।'
গণপরিবহনের পাশাপাশি জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় রাইডশেয়ারিং সেবাতেও বাড়তি ভাড়া চাচ্ছেন চালকরা। তবে এতে যাত্রী হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাতুয়াইল-রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তান রুটে পাঠাও চালক আলআমিন বলেন, 'আগে ১৫০ টাকায় যেতাম। তেলের দাম বাড়ার পর আজ ২০০ টাকা চাইলে যাত্রীরা যেতে চায় না। যাত্রী সংখ্যা কমতে পারে, আয়ও কমবে।'
এদিকে পণ্য পরিবহনেও ভাড়া বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাক ও পিকআপ চালকরা। শাহাদাত নামের এক ট্রাকচালক জানান, আগে যেখানে ৫ হাজার টাকায় যেতেন, এখন সেখানে ৬ হাজার টাকা লাগবে। আবার আগে যা ৮ হাজার টাকা ছিল, তা এখন ১০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে পিকআপ চালক সাগর বলেন, 'রাজধানীর ভেতরে সারাদিন গাড়ি চালালে ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এখন তেলের দাম বাড়ায় সেই অনুযায়ী আমাদের ভাড়াও বাড়াতে হবে।'
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। এর পর থেকেই গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়েছে।
