ধানমন্ডিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বিচার না হলে জামায়াতের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর মিছিল শেষে এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই হামলায় জড়িত দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা না হলে জামায়াতের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই আলটিমেটাম দেন সংগঠনটির সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এর আগে, আজ সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের সমাবেশ চলাকালীন মারধরের শিকার হন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে বাঁচাতে গিয়ে ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। এই হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। অবশ্য জামায়াতের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, 'সাংবাদিকদের ওপর হামলা করার এই রীতি কিন্তু আজকে নতুন নয়। এর আগেও দেখেছি পুলিশ আমাদেরকে পেটাচ্ছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল আমাদেরকে পেটাচ্ছে। তারা সাংবাদিকদের হামলা করে, মারধর করে রাতে এসে আবার একটা ছবি তুলবে, ফল দেবে, সমবেদনা জানাবে, এরপর শেষ। এই সংস্কৃতি থামবে কবে?'
জামায়াতের আশ্বাসের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, 'হামলা করার পর জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকের কাছে এসে সমবেদনা জানাচ্ছেন, তারা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন তারা বিচার করবেন। কিন্তু এটা দুই দিন পরেই কিন্তু আবার সবাই ভুলে যাবে।'
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, 'যদি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখা না যায়, তাহলে প্রয়োজনে জামায়াতের সব কর্মসূচি বর্জন করা হবে।'
