আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সহিংসতার আশঙ্কা: ঢাকাসহ ৩ মহানগর ও ৩ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বেআইনি তৎপরতার আশঙ্কায় ঢাকা মহানগরীসহ দেশের তিনটি মহানগর ও তিনটি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আজ (২২ জুন) ইস্যু করা এক সরকারি চিঠিতে জানানো হয়েছে, মোতায়েনকৃত এই সেনাসদস্যরা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলো হলো—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা।
আগামীকাল (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশব্যাপী বিশেষ সতর্কবার্তা জারির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিআইজি কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সকল ইউনিট প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের স্থানীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং মিছিল করার চেষ্টা করতে পারে। এতে করে অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষ, বিশেষ করে 'জাতীয় নাগরিক কমিটি' (এনসিপি) এবং 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' প্ল্যাটফর্মের সদস্যদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে।
নির্দেশনাটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত এই রাজনৈতিক দলটির নেতা-কর্মীদের কার্যক্রমে বাধা প্রদান করা হলে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
নাশকতার আশঙ্কায় চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সম্ভাব্য নাশকতা ও বেআইনি তৎপরতা ঠেকাতে নগরজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-কে বলেন, 'সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনার বিষয়টি আমরাও পেয়েছি। তারা পুলিশের পাশাপাশি সহযোগী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।'
তিনি বলেন, 'কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তারা হঠাৎ করে ছোট আকারে মিছিল বের করা বা পতাকা প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করতে পারে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি।'
সম্ভাব্য নাশকতার কোনো তথ্য রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।'
আমিনুর রশিদ জানান, নগরের সব থানা, ফাঁড়ি, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, 'আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
