একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, গবেষক ও সম্পাদক আল মুজাহিদী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। গতকাল (১৮ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কবির ছেলে শাবিব আল মুজাহিদী শাবিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বুধবার (১৭ জুন) গুরুতর হৃদ্রোগে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুর ১টার দিকে তিনি আবারও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। তাকে শক থেরাপি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
তিনি বলেন, 'তার রক্তে সংক্রমণ, কিডনি বিকল, হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা—সব একসঙ্গে দেখা দিয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত এক বছর ধরে তিনি হৃদ্রোগ, স্ট্রোকজনিত জটিলতা এবং কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে তাকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ২৩ এপ্রিল তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির সমস্যার চিকিৎসা নিয়ে তিনি গত ২৬ মে পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ বাড়িতে থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ৪ জুন তাকে উত্তরার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি ১৫ জুন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরদিন তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী আল মুজাহিদী ১৯৬০-এর দশকে বাংলা কবিতার উল্লেখযোগ্য কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তার লেখার প্রধান অনুষঙ্গ ছিল। প্রকৃতি, প্রেম, জাতীয় চেতনা এবং আত্মঅনুসন্ধান তার কবিতায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।
কবিতার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ও প্রবন্ধও রচনা করেছেন। তার সাহিত্যজীবনে প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫০টিরও বেশি।
আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন লেখকদের বিকাশে সহায়তা এবং দেশের সাহিত্যাঙ্গনের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে।
