প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে গুরুত্ব পাবে চীনা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন: আশিক চৌধুরী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে চীনা বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে 'গুরুত্বপূর্ণ' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ ছাড়াও সামরিক এবং রাজনৈতিক বিষয়ও সেখানে আলোচনায় উঠতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) 'বাংলাদেশ'স ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন' শীর্ষক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে চীন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত একাধিক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।'
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) তাদের আগারগাঁও কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তার সফরকালে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্দেশ্যে বেইজিংয়ে একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা।
আশিক চৌধুরী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকটি বড় চীনা কোম্পানির বৈঠকেরও আয়োজন করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন বিনিয়োগের সুযোগগুলো তুলে ধরা হবে।'
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, 'চীন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরে শুধু বিনিয়োগ নয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, অবকাঠামো ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়ও আলোচনায় আসবে।'
তিনি জানান, সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হবে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক জোন) প্রকল্পে অগ্রগতি আনা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ভূমি উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ শুরুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
'আমরা আশা করছি এই সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিষয়ে গ্রাউন্ডব্রেকিং বা কাজ শুরুর মতো অগ্রগতি দেখা যেতে পারে,' বলেন তিনি।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে জানান বিডা চেয়ারম্যান।
এসব এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল ও উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানান আশিক চৌধুরী।
বিডা চেয়ারম্যানের মতে, নতুন সরকারের প্রথম দুই বছর সাধারণত বড় ধরনের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবকাঠামো, উৎপাদন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।
'আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে চীনা বিনিয়োগকারীদের দেখানো যে এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে যেসব বড় অবকাঠামো ও শিল্প বিনিয়োগ প্রয়োজন, সেগুলোর সুযোগও আমরা তাদের সামনে তুলে ধরব,' বলেন তিনি।
অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার বর্তমানে ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং কয়েকটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, '২০৩০ সালকে লক্ষ্য রেখে এই ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আপাতত নতুন করে বড় কোনো গ্রিনফিল্ড অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা নেই।'
তিনি জানান, বন্ধ শিল্পকারখানার বড় বড় জমিকে শিল্পাঞ্চল বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পুরোনো রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের জমি ব্যবহার করে বহুমুখী শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সেমিনারে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, 'জ্বালানি সংকট বর্তমানে বিনিয়োগের অন্যতম বড় বাধা। সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে।'
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহ সংকট, বিভিন্ন দপ্তরে অনুমোদন নিতে গিয়ে সময় ও অর্থের অপচয় এবং নানাবিধ বাধা দূর করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, 'চলতি বছরে এ সংকট পুরোপুরি কাটবে না—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামী বছরে বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'আমাদের যেহেতু ম্যানুফ্যাকচার বেইজ ইকোনমি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা আর বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা খুব কাছাকাছি। সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি। এটা নিয়ে আমার মনে হয় কোনো বিতর্কের কোনো জায়গা নেই। এটা আমাদের সরকার থেকেও খুব ভালো করে জানি যে জ্বালানি স্পেশালি গ্যাস।'
'আমি যদি একদম স্পেসিফিক একটা ইস্যু বলি সেটা হচ্ছে আমাদের গ্যাসের যে স্বল্পতা আছে। গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সবচেয়ে বেশি সাফার করছে আমাদের ফ্যাক্টরিগুলো। তারপরে আপনি ইলেকট্রিসিটির কথা বলতে পারেন। এনবিআরের কথা সবাই বলে যে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার তারা সম্মুখীন হন। আমার মনে হয় দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যার মানে লিস্টটা খুব বেশি ভিন্ন না,' বলেন তিনি।
