বে টার্মিনাল-২ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে, ৩ নম্বরটি হবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়: নৌপরিবহনমন্ত্রী
বে টার্মিনাল-২ নির্মাণ ও পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অন্যদিকে, বে টার্মিনাল-৩ বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পতেঙ্গা, লালদিয়া এবং বে টার্মিনাল-২ ও ৩-এর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হতে পারবে। এর মাধ্যমে বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দরগুলোর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যপদ্ধতির পার্থক্য তুলে ধরে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, "কলম্বো ও সিঙ্গাপুর মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়, ফলে কাস্টমস পরীক্ষা বা ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে কাস্টমস পরীক্ষা, ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের তুলনায় এখানে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কিছুটা বেশি হয়।"
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে আগত ও রপ্তানিযোগ্য কনটেইনারের প্রায় ১০০ শতাংশই বাংলাদেশের নিজস্ব আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ফলে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ইতিমধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও কমবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। অতীতে গভীর সমুদ্র এলাকায় জাহাজকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে কোনো জাহাজকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
টার্নঅ্যারাউন্ড সময়ের পরিসংখ্যান দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড সময় ছিল ২.৫৮ দিন। বর্তমানে এটি কমে গড়ে প্রায় ২.১০ দিনে দাঁড়িয়েছে। তবে পরিকল্পিত সব টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে এই সময় অর্ধ-দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বর্তমানে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনালও উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে এবং বে টার্মিনাল-২ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। এর বিপরীতে বে টার্মিনাল-৩ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়ন করবে।
মন্ত্রী বলেন, "চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় সব কনটেইনার টার্মিনাল যদি আমরা চালু করতে পারি, তবে ২০২৯ সালের মধ্যে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। তখন সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।"
তিনি আরও জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বে-টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হবে। এটি কার্যকর হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বড় জাহাজ বা মাদার ভেসেল প্রবেশের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার নির্ভরতা ও নাব্যতার সংকট দূর হবে। এর ফলে বন্দরের সামগ্রিক জট পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে।
