৯ মাসে কমেছে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি, বেড়েছে পরিশোধের চাপ
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় উভয়ই কমেছে। অন্যদিকে, আগের তুলনায় বেড়েছে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাই-মার্চ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে ১৯ শতাংশ এবং ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬.৬৯ শতাংশ। বিপরীতে, ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৯.৭৪ শতাংশ।
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কম থাকায় চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের ছাড় এমনিতেই কম হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও এখনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। আবার চলমান অনেক প্রকল্প নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মূলত এসব কারণেই বৈদেশিক অর্থছাড় কমেছে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বৈদেশিক ঋণ ছাড় হয়েছে ৩.৮৯১ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৮০৮ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ জোর দিতে হচ্ছে। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকার পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করছে। এতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নতুন চুক্তি কম হওয়ায় ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। তবে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন করে ৩.২ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর ফলে অর্থবছরের বাকি সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইআরডির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে ২.৮০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩.০০৫ বিলিয়ন ডলার।
ঋণ পরিশোধের বিষয়ে ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, বিগত সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যেসব ঋণ নিয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোর 'গ্রেস পিরিয়ড' শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।
আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট ৩.৫২৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছিল ৩.২১২ বিলিয়ন
ডলার।
