প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১১ পয়সা
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর মহানগর ও দূরপাল্লার বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ । পুনঃনির্ধারিত এ ভাড়ার হার বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে ।
এর আগে সচিবালয়ে সমন্বয়কৃত বাস ভাড়া ঘোষণা শেষে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে। তবে রেল ও নৌ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
প্রজ্ঞাপন অনুসারে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া আগের ২.৪২ টাকার স্থলে ২.৫৩ টাকা পুনঃনির্ধারণ করেছে সরকার ।
এছাড়া আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে আগের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২.১২ টাকার স্থলে ২.২৩ টাকা পুনঃনির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয় ।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে যাত্রীপতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২.৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২.৪৩ টাকা নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয় ।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা বহাল রাখা হয়েছে ।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, পুনঃনির্ধারণকৃত এ ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না । একইসঙ্গে নতুন ভাড়া তালিকা প্রতিটি বাস ও মিনিবাসে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পুনঃনির্ধারিত ভাড়া অনুসারে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী রুটে ৪.৫৪ শতাংশ, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসে ৫.১৯ শতাংশ ও ডিটিসিএ এলাকায় ৪.৭৪ শতাংশ বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বাস ভাড়া নির্ধারণে পরিবহন মালিকদের কাছে নতি স্বীকার না করায় সরকারকে অভিনন্দন জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ।
বাস মালিকরা বিভিন্ন রুটে প্রকৃত দূরত্বের থেকে দূরত্ব বেশি দেখানো, গুরুত্বপূর্ণ ওঠা-নামা পয়েন্টে স্টপেজ না দেখিয়ে সর্বশেষ গন্তব্যের ভাড়া আদায়ের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অপকৌশল নিতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সরকারকে শক্ত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ।
একইসাথে সিএনজিচালিত বাসে ডিজেলচালিত বাসের হারে বর্ধিত ভাড়া আদায় বন্ধ করার দাবি জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব ।
তবে ভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন পরিবহন মালিকরা । হানিফ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ টিবিএসকে বলেন, 'পুনঃনির্ধারিত ভাড়ার হার আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হয়েছে ।'
তিনি বলেন, 'স্পেয়ার পার্টসসহ আমাদের যানবাহনের সব কিছু আমদানি-নির্ভর । বিগত বছরগুলোতে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যপক দরপতন হয়েছে । আমাদের প্রত্যাশা ছিলো কিলোমিটার প্রতি ২৮ পয়সা বৃদ্ধি । '
হানিফ আরও বলেন, 'পরিবহন মালিকরা যদি ক্ষতির মুখে পড়েন, তাহলে গণপরিবহনের সেবাও খারাপ হবে । মালিকরা কমদামি অশোক লেল্যান্ড, টাটা ঘরানার চেসিস, বডি ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন । কিছুদিন পরেই এসব গাড়ি রাস্তাঘাটে পড়ে থাকবে । বডি ভালো থাকবে না ।'
২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বা ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায় সরকার।
এরপর কয়েক দফায় ডিজেলের দাম কমানো হয়। একইসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার দুই দফায় কিলোমিটারপ্রতি বাস-মিনিবাসের ভাড়া ৮ পয়সা কমায়। কিন্তু তা মেনে বাসের ভাড়া কমাননি পরিবহন মালিকেরা। সরকারেরও কোনো তদারকি ছিল না।
এ বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে ইশতিয়াক আহমেদ নামের একজন যাত্রী বলেন, '২০২২ সালে ডিজেলের দাম বেড়ে ১১৪ টাকা হওয়ার পর যে ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করে দিয়েছিল, বর্তমানে সে হিসাবেই ভাড়া নিচ্ছেন পরিবহন মালিকরা। পরে ডিজেলের দাম কয়েক দফায় কমে ১০০ টাকা হলেও ভাড়া আর কমাননি গণপরিবহনের মালিকরা। সে হিসাবে এখন ডিজলের দাম প্রতি লিটারে বেড়েছে মাত্র এক টাকা ।
তাই পরিবহন মালিকদেরঅস্বাভাবিক বেশি ভাড়া দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি ।
দেশের পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহনের বেশিরভাগই ডিজেলে চলাচল করে। এর মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে দেয় না। শুধু শীতাতপনিয়ন্ত্রিত নয় (নন-এসি), এমন বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করলে বাস ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসে ।
