জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ, ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহালে উদ্বেগ
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)-এর সব সদস্য সোমবার পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পর দেওয়া খোলাচিঠিতে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ পুনর্বহাল হলে সংস্থাটির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিরা ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
এতে বিদায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষর রয়েছে।
খোলাচিঠিতে বিদায়ী কমিশনের সদস্যরা বলেন, ''সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায়, ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার প্রশ্ন করছেন– 'এখন আমাদের কী হবে?' তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলাচিঠি।''
বলা হয়, ''কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ আমরা কলম হাতে নিয়েছি।''
বিদায়ী কমিশনাররা চিঠিতে 'সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব', 'অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তিসমূহ' এবং 'ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাবনা'—এমন তিন উপশিরোনামে নিজেদের অবস্থান এবং অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
তাদের দাবি, সংসদীয় বিশেষ কমিটির যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংসদে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে, তাতে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হবে।এটি আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে আসবে।
বলা হয়, আওয়ামী লীগ আমলে ২০০৯ সালে মানবাধিকার কমিশন আইনটি হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনকে শক্তিশালী করার প্রয়াসে নতুন অধ্যাদেশ জারি করে। এখন বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই অধ্যাদেশটি বাতিল হলো।
কমিশনাররা দাবি করেছেন, অধ্যাদেশ বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ভুল কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সংসদে বলা হয় যে গুমের সাজা মাত্র ১০ বছর কারাদণ্ড, অথচ গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ পাস করে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও প্রকৃত অর্থে ভবিষ্যতে জুলাই যোদ্ধারা মামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
তারা বলেছেন, এক দিকে বলা হচ্ছে, যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আইন প্রণীত হবে, অন্যদিকে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে নথিভুক্ত সরকারের প্রকৃত আপত্তিগুলো মানলে অনিবার্যভাবে ২০০৯ সালের মতো দুর্বল আইন হবে, যা জন্মলগ্ন থেকে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
