‘খণ্ডিত আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলেও’ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কৌশলগত গভীরতার অভাব: হোসেন জিল্লুর
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেওয়া এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার অন্তত আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এই নির্বাহী চেয়ারম্যান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "বাজেটে 'খণ্ডিত আন্তরিক প্রচেষ্টার' লক্ষ্যের প্রচুর আধিক্য রয়েছে, তবে অর্থনীতিকে একটি নতুন গতিপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত গভীরতার অভাব রয়েছে।"
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উচ্চ বরাদ্দের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, বাজেট বড় হওয়া মানেই উন্নত সেবা নিশ্চিত হওয়া নয়। তিনি বলেন, "বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মান কীভাবে উন্নত করা হবে, সে বিষয়ে তেমন কোনো নির্দেশনা বা ইঙ্গিত নেই।"
বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা আমলাতন্ত্রের দক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের প্রায় ৬৬ শতাংশই পরিচালন ব্যয়ের (অপারেটিং এক্সপেন্ডিচার) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, "এটি সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, বিশেষ করে যখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য বাজেটে কোনো অর্থপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ নেই।"
ব্যাংকিং খাতের কথা উল্লেখ করে জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেটে কিছু সংস্কার উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা সেই প্রচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি বলেন, "একদিকে ব্যাংকিং সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা লেগেই আছে। এই বৈপরীত্য একটি বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি করছে।"
সরকারের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায় এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
