২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.০৩%
২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি কমে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩.৫৩ শতাংশ।
তবে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল তুলনামূলক বেশি—৪.৯৬ শতাংশ; আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩.৯১ শতাংশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মূল্যে দেশের জিডিপির আকার বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ১৭৬ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ১৩ হাজার ৯০১ বিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার কমলেও অর্থনীতির মোট আকার বেড়েছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাতে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৯০ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.১১ শতাংশ, যেখানে আগের বছরে তা ছিল ঋণাত্মক (-০.১২ শতাংশ)।
অন্যদিকে শিল্প খাতে বড় ধরনের মন্থরতা দেখা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ১.২৭ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫.৭৮ শতাংশ। তবে প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৮২ শতাংশ।
সেবা খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৪৫ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৪৮ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় একই—৪.৫১ শতাংশ।
কৃষি ও সেবা খাত প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করলেও শিল্প খাতের ধীরগতির কারণে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ তৈরি হয়েছে। শিল্পে গতি ফেরাতে বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক চাহিদা পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
