প্যাকিং হাউসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সিলেটের গোয়ালগাদ্দা শিম রপ্তানি
গোয়ালগাদ্দা একধরনের শিম, যার উৎপাদন হয় কেবল সিলেট অঞ্চলেই। তবে এর বিপণন সিলেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, দেশ ছাড়িয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হয় বিশেষ জাতের এই শিম। কিন্তু জেলায় কোনো সরকারি প্যাকিং হাউস না থাকায় এর পূর্ণ রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্স-এর সভাপতি সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'গত কয়েক বছর থেকেই গোয়ালগাদ্দা শিম রপ্তানি হচ্ছে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত রপ্তানি হয়। এবার প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার কেজি করে শিম রপ্তানি হচ্ছে।
'সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে কার্গো হাউস হয়েছে। সেখানে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) মেশিন স্থাপন হয়েছে। কিন্তু সরকারি প্যাকিং হাউস না থাকায় আমরা এর সুফল পাচ্ছি না। এতে সম্ভাবনা থাকলেও আশানুরূপ রপ্তানি হচ্ছে না।'
সবজি রপ্তানির জন্য সরকারি প্যাকিং প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের এখন ঢাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্যাকিং হাউস থেকে প্যাকিং করাতে হয়। কিন্তু এতে সময় ও খরচ বেড়ে যায়। অনেকসময় সবজি নষ্টও হয়ে যায়।'
সাধারণ শিমের চাইতে গোয়ালগাদ্দা আকারে অনেকটা বড়। ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা ও ২ থেকে ৪ ইঞ্চি প্রস্থের এই শিম সিলেটে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সুস্বাদু। অন্য জাতের শিমের চেয়ে এর চাহিদাও বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলায় এবার প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে গোয়ালগাদ্দা চাষ হয়েছে। সিলেটে গত বছর প্রায় ৪৫ হাজার টন গোয়ালগাদ্দা শিম উৎপাদন হয়েছিল। এবার ৫০ হাজার টন উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণে অধিদপ্তর, সিলেটের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি গোয়ালগাদ্দা চাষ হয়। এছাড়া দক্ষিণ সুরমা ও জৈন্তাপুরেও এই শিমের ব্যাপক চাষ হয়।
তিনি জানান, 'গোলাপগঞ্জে দুই শতাধিক কৃষক এই শিম চাষ করেন। এরমধ্যে শ-খানেক কৃষক ভেজিটেবল অ্যান্ড ফুডস এক্সপোর্ট নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এই কৃষকদের কাছ থেকে শিম কিনে রপ্তানি করা হয়। চাষের শুরু থেকেই রপ্তানিযোগ্য করে শিম উৎপাদনে আমরা কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে থাকি।'
গোলাপগঞ্জের কৃষক সজিবুর রহমান প্রতি বছর গোয়ালগাদ্দা শিম চাষ করেন। এবারও প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে এই শিমের আবাদ করেছেন তিনি।
সজিবুর রহমান বলেন, 'এবার শিমের ফলন ভালো হয়েছে। দামও মিলছে ভালো। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিম ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমার চাষের শিম বেশিরভাগই বিদেশে রপ্তানি হয়। খেত থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা শিম কিনে নেন। এরপর তারা রপ্তানিকাকদের কাছে বিক্রি করেন।'
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক খায়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, সিলেট অঞ্চলের কৃষকরা আগে গোয়ালগাদ্দা চাষ করতেন না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগের ফলে এ শিম নিয়ে তাদের উৎসাহ অনেকে বেড়েছে। ফলে উৎপাদনও বাড়ছে।
তিনি বলেন, 'সিলেটের সবজির মধ্যে গোয়ালগাদ্দা শিম বেশ সম্ভাবনাময়। এটি ইউরোপসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।'
রপ্তানির ফলে সব কৃষকরাই লাভবান হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, 'বাজারে এখন অন্য জাতের শিম ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গোয়ালগাদ্দা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। রপ্তানি হওয়ার কারণেই এর দাম বেশি।'
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রাখালগঞ্জ বাজারের বিক্রেতা রতন মনি দাশ বলেন, অন্যান্য শিমের চাইতে সিলেটে গোয়ালগাদ্দা শিমের চাহিদা বেশি। ফলে এর দামও তুলনামূলক বেশি।
