চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য চালান বেসরকারি আইসিডিতে সরানোর অনুমতি
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট নিরসনে সকল ধরনের পণ্য চালান শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) সরানোর অনুমতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বৃহস্পতিবার এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) মোহাম্মদ মেহরাজ-উল-আলম সম্রাট স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই আদেশের ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে জমে থাকা পণ্যবাহী কন্টেইনারগুলো আমদানিকারকরা চট্টগ্রামের ১৯টি আইসিডিতে স্থানান্তর করতে এবং সেখান থেকে ডেলিভারি নিতে পারবেন। বর্তমানে আইসিডি থেকে খাদ্যপণ্যসহ ৩৮ ধরনের পণ্য খালাস করা হয়।
আদেশে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট কন্টেইনার জট নিরসনের লক্ষ্যে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত সকল ধরনের পণ্য চালান সংশ্লিষ্ট কন্টেইনার শর্তসাপেক্ষে চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে সংরক্ষণ এবং আনস্টাফিং করার এবং অফডকসমুহ হতে খালাস প্রদানের অনুমতি প্রদান করা হলো।
পণ্য চালান স্থানান্তরে এনবিআরের দেওয়া তিনটি শর্ত হলো, বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আইসিডিতে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কন্টেইনার আবশ্যিকভাবে স্ক্যানিং করতে হবে এবং স্ক্যানিং রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে; আইসিডিতে স্থানান্তরিত সকল কমার্শিয়াল পণ্য চালান আবশ্যিকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ৩০ জুন এই আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের চলমান কন্টেইনার জটসহ সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
ওই সভায় কন্টেইনার জট নিরসনে বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে বেসরকারি আইসিডিতে সকল ধরনের পণ্য স্থানান্তরে এনবিআরের অনুমোদনের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আবুল কালাম আজাদ বলেন, এনবিআরের এই সিদ্ধান্তের ফলে কন্টেইনার জট নিরসন হবে বলে আশা করছি। ব্যবসায়ীদেরকে অনুরোধ করছি, তারা যেন পণ্য নিয়ে যান। যদি আগের মতো প্রতিদিন আমরা ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার একক ডেলিভারি দিতে পারি, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে চলমান জটের নিরসন অনেকাংশে সমাধান হয়ে যাবে।
বেসরকারি আইসিডি মালিকদের সংগঠন বিকড়া'র মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ১৯টি আইসিডিতে কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা ৬৫ হাজার টিউস। বর্তমানে ১৮ হাজার টিউস রাখার জায়গা খালি আছে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম চালু থাকলেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের শুল্কায়ন কার্যক্রম সীমিত করা হয়। ২৬ মার্চ থেকে শুধু জরুরি খাদ্যপণ্য, ওষুধসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের শুল্কায়ন করেছে কাস্টম হাউস। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট বাড়তে থাকে।
অবস্থার অবনতি হওয়ার পর ৩০ মার্চ এনবিআর আরেকটি আদেশে জরুরি পণ্যে শুল্কায়ন তালিকার পাশাপাশি শিল্পের কাচামাল শুল্কায়ন করার নির্দেশ দেয়।
সীমিতসংখ্যক পণ্য শুল্কায়নের কারণে বন্দরে দেখা দেয় তীব্র কন্টেইনার জট। প্রায় অচল হয়ে পড়ে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং। দীর্ঘ হতে থাকে জাহাজের অপেক্ষা।
এর প্রেক্ষিতে ১৮ এপ্রিল বন্দরে আটকে পড়া কন্টেইনার সরাতে ৬ ধরনের পণ্য বেসরকারি আইসিডিতে সরানো এবং ঢাকার কমলাপুরে আইসিডির পণ্য নৌপথে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয় এনবিআর।
ওই সিদ্ধান্তের পর চট্টগ্রাম বন্দরসহ বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল পণ্য ছাড় করার বিষয়ে আবারও দাবি ওঠে।
এরপর ২২ এপ্রিল দেশের সব শুল্ক স্টেশনের কাজ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা জারি করে এনবিআর। সর্বশেষ ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা সকল ধরনের পণ্য চালান বেসরকারি আইসিডিতে স্থানান্তর এবং সেখান থেকে ডেলিভারি নেওয়ার সিন্ধান্ত দেওয়া হলো।
