চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১০ পুলিশ
বাংলাদেশ পুলিশে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার বাড়ছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পর চট্টগ্রামে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবার পর্যন্ত ১০ জন পুলিশ সদস্য ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আটজনই ট্রাফিক পুলিশের সদস্য। অপর দুজনের একজন নগর পুলিশের এসএএফ ইউনিট এবং অপরজন র্যাব-৭-এ কর্মরত।
করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণের কারণে উদ্বিগ্ন পুলিশের অন্য সদস্যরাও। আবার আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের অনেকের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় অনেকেই রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
সারা দেশে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ৩৩৬ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গেছেন তিনজন।
করোনাভাইরাসের সামাজিক বিস্তার রোধ করতে এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে রাখা হচ্ছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের। পাশাপাশি যারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অতিরিক্ত ব্যালেন্স ডায়েট খেতে দেওয়া হচ্ছে, যেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
আক্রান্ত আট ট্রাফিক সদস্যের সাতজনই ট্রাফিক পুলিশের উত্তর জোনে কর্মরত। তারা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামের ট্রাফিক বিভাগে যারা কর্মরত, তাদের সবাই সুস্থ আছেন। কয়েকজনের জ্বরের উপসর্গ থাকলেও কারও কারও মধ্যে এ ভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই। সামাজিক সংক্রমণের কারণে অনেকের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসছে। একসঙ্গে ছিলেন বলে অনেকের নমুনা পরীক্ষায় এ ভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সংক্রমণ এড়াতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে তাদেরকে বিভিন্ন হোটেলে রাখা হচ্ছে। তাছাড়া, যারা বিভিন্ন চেক পোস্টে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে।
যারা গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন কিংবা দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন জনের সংস্পর্শে আসছেন, তারা এ সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি।
চট্টগ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ হওয়ার খবর আসে ১২ এপ্রিল। পঞ্চাশোর্ধ ওই ট্রাফিক সদস্য থাকতেন দামপাড়া পুলিশ লাইনের ট্রাফিক ব্যারাকে। ওই রাতেই লকডাউন করে দেওয়া হয় ব্যারাকটি।
পরে যে আট ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, তারা সবাই ওই ব্যারাকেই থাকতেন। প্রথমজন থেকেই তাদের সবার মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে বলে ধারণা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
সতর্কতার অংশ হিসেবে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সংস্পর্শে যারাই এসেছিলেন, তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর পুলিশ। এজন্য সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৩টি কক্ষকে কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। দামপাড়া বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ২০টি আইসোলেশন শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৬ শয্যার ফ্লু কর্নারও চালু রয়েছে।
দামপাড়া পুলিশ লাইন ব্যারাকে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে। চকবাজারের হোটেল ফ্রেশ ইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৩৩ জনকে। তারা সবাই ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত। এছাড়া সদরঘাট এলাকার এক হোটেলে রাখা হয়েছে আরও ১০ জনকে; তারা ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে কর্মরত।
অন্যদিকে, জিইসি কনভেনশন সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয় অন্তত ৭৩ জন পুলিশ সদস্যকে। তারা সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও বিশেষ শাখায় কর্মরত। ১৬ এপ্রিল থেকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্স ছেড়ে ওই কনভেনশনে থাকছেন তারা। দামপাড়ার আরও কিছু সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্সে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) মঈনুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সংস্পর্শে আসা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেওয়া ৬৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জনের পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে। যেখানে ৯ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। আরও ৩৪টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। সতর্কতার অংশ হিসেবে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ৬০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ফ্লু কর্নারে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এখন আমরা নিয়মিত ভিটামিন-সিসহ অতিরিক্ত খাবার দিচ্ছি। পাশাপাশি, কারও জ্বর কিংবা সর্দি দেখা দিলে তাকে আলাদা করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, সোমবার রাতে এক র্যাব সদস্যের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ব্যারাকে থাকা ৩০ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান র্যাব-৭-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আক্রান্ত ওই র্যাব সদস্যকে ৭ এপ্রিল থেকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। পরে তার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসে।
