‘ইয়াসির সবচেয়ে বড় কালপ্রিট, সে দলে থাকলে আমি থাকব না’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চট্টগ্রাম পর্ব গত ২৮ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। সাগরপাড়ের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে রান বন্যা হচ্ছে। এতে দলগুলোর মতো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে আয়োজকরাও। কিন্তু এর মাঝেই এলোমেলো ঘরের মাঠের দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
মাঝ পথে দেশে ফিরে গেছেন প্রধান কোচ পল নিক্সন। বদলে ফেলা হয়েছে অধিনায়কও। মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে অধিনায়ক করা হয়েছে নাঈম ইসলামকে। হঠাৎ করে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ায় বেজায় চটেছেন মিরাজ। অপমানিত বোধ করায় দল ছেড়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি।
অধিনায়কত্ব হারানোর পেছনে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের চিফ অপারেটিং অফিসার সৈয়দ ইয়াসির আলমের হাত দেখতে পাচ্ছেন মিরাজ। ইয়াসিরের অপেশাদার আচরণও তাতিয়ে দিয়েছে তাকে। ইয়াসিরকে 'কালপ্রিট' ডেকে মিরাজ জানিয়েছেন, সে যদি দলে থাকে, তাহলে চট্টগ্রামের হয়ে খেলবেন না তিনি।
ইয়াসিরের অপেশাদার আচরণের কারণে চট্টগ্রামে খেলার অবস্থা নেই বলে মনে করেন মিরাজ। এ নিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, 'সে যদি দলে থাকে আমি থাকব না। ইয়াসির যদি না দলে থাকেন, তাহলে আমি দলে খেলব।'
কোচকে নিয়ে ইয়াসিরের বলা কথা মিথ্যা জানিয়ে মিরাজ আরও বলেন, 'কোচকে নিয়ে ইয়াসির মিডিয়াতে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কোচের সাথে আমার ৩০ মিনিটের মতো কথা হয়েছে। ইয়াসির যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইয়াসিরই সবচেয়ে বড় কালপ্রিট।'
জানা গেছে, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে চেয়েছিলেন মিরাজ। যা নিয়ে দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। যদিও মিরাজ এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'এ রকম কিছু না। বিপিএলে গত দুই বছর আমি তো ওপেনিংয়েই ব্যাটিং করেছি, ভালোই খেলেছি। আমি আমার মতামত দিয়েছি। আমি জোড় করেছি, তেমন নয়।'
বোরবার দুপুরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। এদিন দলের সঙ্গে মাঠে যাওয়া বা অনুশীলন, কোনোটাই করেননি মিরাজ। বিকাল সাড়ে ৫টার ফ্লাইটে ঢাকার ফেরার টিকেট কাটেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বিকাল সোয়া চারটার দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে যান মিরাজ।
নিচে গিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন চট্টগ্রাম অলরাউন্ডার। এ সময় চট্টগ্রামের লজিস্টিক ম্যানেজার হিরক নিচে নেমে মিরাজকে অনেক বুঝিয়ে হোটেলে ফেরান। লবিতে বসে দীর্ঘক্ষণ মিরাজকে অনুরোধ করতে থাকেন হিরক। সোয়া পাঁচটার দিকে মিরাজকে নিয়ে উপরে ওঠেন হিরক। তখনও স্ত্রী-সন্তানকে গাড়িতে বসার কথা বলে যান মিরাজ। এর কিছুক্ষণ পর হিরক নিচে নেমে মিরাজের স্ত্রী-সন্তানকে উপরে নিয়ে যান। এরপর মিরাজকে নিয়ে আলোচনায় বসে চট্টগ্রামের টিম ম্যানেজমেন্ট।
