চূড়ান্ত হলো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষের আলোচনায় কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের নামটি ছিল না। এ ছাড়া প্রথম রাউন্ডে 'এ' গ্রুপের বাকি তিন দল শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার মধ্য থেকে যে কেউ হতে পারতো সাকিব আল হাসানের দলের প্রতিপক্ষ।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হেরে নামিবিয়া বিদায় নিয়েছে, তাদের হারে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত হয়েছে নেদারল্যান্ডসের। রানার্স আপ হয়ে বাংলাদেশের সামনে পড়েছে কমলারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ২৪ অক্টোবর হোবার্টে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ম্যাচে ২৭ অক্টোবর সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে প্রথম রাউন্ডে 'বি' গ্রুপের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ সাকিবদের। তবে এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনও নিশ্চিত হয়নি। কে হবে প্রতিপক্ষ, সেটা অনুমানও করা যাচ্ছে না। কারণ এই গ্রুপের চার দল স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড দুটি করে ম্যাচ খেলে একটি করে জিতেছে। সবার সমান দুই পয়েন্ট। চ্যাম্পিয়ন, রানার্স আপ নিশ্চিত হবে।
তিনটি ম্যাচই খেলে ফেলেছিল ডাচরা, দুই জয়েও নিশ্চিত ছিল না তাদের সুপার টুয়েলভ। তাকিয়ে থাকতে হয় নামিবিয়া-আরব আমিরাতের মধ্যকার ম্যাচের দিকে। এই ম্যাচে নামিবিয়া জিতলে দুই জয়ও কাজে আসতো না নেদারল্যান্ডসের, সমান পয়েন্ট হলেও রান রেটের এগিয়ে থাকা নামিবিয়া উঠতো সুপার টুয়েলভে।
কিন্তু ঠিক পথে থেকেও জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি আফ্রিকার দেশটি। আরব আমিরাতের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৭ রানে হেরে গেছে ডেভিড ভিসা, জনাথন স্মিটদের দেশ। বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়ার জিলংয়ে টস জিতে আগে ব্যাটিং করা নামা আমিরাত মোহাম্মদ ওয়াসিম ও অধিনায়ক রিজওয়ানের ব্যাটে ৩ উইকেটে ১৪৮ রান তোলে। জবাবে ডেভিড ভিসার দারুণ লড়াইয়ের পরও ৮ উইকেটে ১৪১ রানে থামে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানো নামিবিয়ার ইনিংস।
মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি নামিবিয়া। নিয়মিত ধারায় উইকেট হারাতে থাকে তারা। ৪৬ রানরে মধ্যেই ৫ উইকেট হারায় আইসিসির সহযোগী দেশটি। এখান থেকে হাল ধরে দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান দারুণ ব্যাটিং করা ভিসা। কিন্তু ২ বল বাকি থাকতে থামতে হয় তাকে। তার বিদায়ে হার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় নামিবিয়ার।
ডানহাতি এই অলরাউন্ডার ৩৬ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৫৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া ভ্যান লিনজেন ১০, অধিনায়ক জেরহার্ড এরাসমাস ১৬, জ্যান ফ্রাইলিঙ্ক ১৪ ও রুবেন ট্রাম্পলম্যান অপরাজিত ২৫ রান করেন। আমিরাতের বাসিল হামিদ ও জাহুর খান ২টি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান জুনায়েদ সিদ্দিক, কার্তিক মিয়াপ্পান ও মোহাম্মদ ওয়াসিম।
এর আগে ব্যাটিং করা আমিরাতের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন ওয়াসিম। ৪১ বলে একটি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫০ রান করেন আমিরাতের এই ওপেনার। এ ছাড়া ভ্রিত্য আরভিন্দ ২১, রিজওয়ান ২৯ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৪৩ ও বাসিল ১৪ বলে ২৫ রান করেন। একটি করে উইকেট নেন ভিসা, বার্নান্ড স্কল্টজ ও বেন সিকোঙ্গো।
