ন্যাটোয় যোগ দিতে পশ্চিমাদের আর অনুরোধ না করার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের
ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিকজোট ন্যাটোর সদস্য বানাতে আর কোনো আনুরোধ বা জোরাজুরি করবেন না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (৭ মার্চ) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, এএফপি'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়াপন্থী দুই এলাকার (দনেৎস্ক ও লুহানস্ক) বর্তমান অবস্থা নিয়েও তিনি খোলা মনে সমঝোতা করতে প্রস্তুত। ইউক্রেনের ন্যাটোয় যোগদানের সম্ভাবনায় উদ্বিগ্ন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণের আগে দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। জেলেনস্কির এমন মন্তব্য যুদ্ধ থামানোয় সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে অন্তত ২০টি দেশ ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। তবে, ন্যটো এখনও প্রকাশ্যে এ যুদ্ধে অংশ নেয়নি। এমনকি, জেলেনস্কির বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ইউক্রেনের আকাশসীমায় 'নো ফ্লাই জোন' ঘোষণা করেনি তারা। ন্যাটোর এমন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন ইউক্রেনের নেতা।
এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, "১৩ দিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতির কথাই শুনে আসছি। আকাশপথে নাকি আমাদের সাহায্য করা হবে। আমাদের জন্য বিমান পাঠানো হবে। এ বিষয়ে এখনও যারা সিদ্ধান্ত নিতে পারল না, রাশিয়ার আক্রমণ থেকে ইউক্রেনের আকাশকে সুরক্ষিত রাখতে পারল না, দায়িত্ব কিন্তু তাদের ওপরেও বর্তাবে।" পরে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা বুঝে গিয়েছি, ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্যভুক্ত করতে প্রস্তুত নয়। তারা বিতর্কের ভয় পায়। রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতেও যেতে চায় না তারা।"
ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমি কিয়েভের বাঙ্কোভা স্ট্রিটে আছি। আমি লুকিয়ে নেই। কাউকে ভয় পাচ্ছি না। দেশপ্রেমের এই যুদ্ধ জিততে যা যা করতে হবে, আমি করব।"
এদিকে, মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া জানিয়েছেন, মানবিক করিডর তৈরির মাধ্যমে কিয়েভ, সুমি, মারিউপোল ও চের্নিগভের সাধারণ বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হবে। এর জন্য ওই এলাকাগুললোতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। তবে জেলেনস্কির অভিযোগ, মুখে এ কথা বললেও রাশিয়া আসলে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সাধারণ মানুষদের উদ্ধারে প্রতি মুহূর্তেই বাধা দিয়ে যাচ্ছে। যে রাস্তা দিয়ে মারিউপোলে ত্রাণ পাঠানোর কথা হয়েছিল, সেখানে মাইন বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সাধারণ জনগণকে উদ্ধারের জন্য আনা বাসগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
ন্যাটোর সদস্যভুক্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে একজন দোভাষীর মাধ্যমে এবিসি নিউজকে জেলেনস্কি বলেন, তিনি "এমন দেশের প্রেসিডেন্ট হতে চান না, যারা হাঁটু গেড়ে ভিক্ষে চায়।"
রাশিয়ার দাবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জেলেনস্কি আরও জানান, তিনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, "আমি নিরাপত্তার নিশ্চয়তার কথা বলছি।"
যুদ্ধে এখন পর্যন্ত রাশিয়া তাদের ৫০০ সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও ইউক্রেনের দাবি, এই সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।
- সূত্র: এবিসি নিউজ
