রাজকুমারী হায়ার একটি চুলার জন্য বরাদ্দ ১৮ কোটি টাকা!
দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম এবং জর্ডান প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসেইনের বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাকে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল বিচ্ছেদ হিসাবে গণ্য করা হয়। যুক্তরাজ্যের আদালত গত মাসে প্রিন্সেস হায়ার পক্ষে একটি রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, প্রিন্সেস হায়াকে ৭২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে হবে দুবাই শাসককে। প্রিন্সেস হায়া, শেখ মোহাম্মদের ৬ষ্ঠ স্ত্রী ছিলেন। আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রাক্তন এই দম্পতি সমঝোতায় আসেন।
কি আছে এই সমঝোতা চুক্তিতে? দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা মতে, আদালত প্রিন্সেস হায়াকে বছরে নয় সপ্তাহের বিদেশ ভ্রমণ, যুক্তরাজ্যে দুই সপ্তাহ এবং জর্ডানে তিন সপ্তাহান্তে এবং যুক্তরাজ্যে তিন সপ্তাহান্তে ছুটির জন্য প্রায় ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০৬৮ সাল পর্যন্ত রাজকুমারী নিরাপত্তা খরচ পাবেন। এছাড়া, রান্নাঘর সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং লন্ডনে হায়ার বাড়িতে একটি ওভেন তৈরি করার জন্য প্রায় ২.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার আগে দুবাইতে রাজকুমারী হায়ার রাজকীয় জীবনধারা সম্পর্কে জানতে আগ্রহের কমতি নেই কারোরই। চলুন দেখে নিই বিচ্ছেদের আগে দুবাইয়ের রাজকীয় পরিবেশে রাজকুমারী হায়া কেমন জীবনযাপন করতেন।
১. ইয়ট এবং ব্যক্তিগত জেটবিমানসহ অগণিত অর্থের মালিক
নিঃসন্দেহে জর্ডানের রাজা হুসেনের কন্যা, রাজকুমারী হায়া দুবাইয়ের শাসকের সাথে তার বিয়ের অনেক আগে থেকেই বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। শেখ মোহাম্মদের সাথে তার বিয়ের পর, রাজকুমারী হায়া এবং তার সন্তানেরা অগণিত অর্থ খরচ করার সুবিধা পান। এছাড়াও তিনি একটি ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের ইয়ট (প্রায় ৫৪০ মিলিয়ন ডলার), বিলাসবহুল প্রাসাদ এবং একটি ব্যক্তিগত জেট বিমানের মালিক ছিলেন।
২. বার্ষিক ১২ মিলিয়ন ডলার ভাতা
রাজপরিবারের সদস্যরা বাৎসরিক খরচের জন্য ভাতা প্রাপ্ত হন। প্রিন্সেস হায়ার পরিবারের জন্য বার্ষিক বাজেট ছিল ৮৩ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি। আর, ব্যক্তিগত খরচের জন্য বরাদ্দ ছিল ৯ মিলিয়ন পাউন্ড।
৩. ৪০০ রেসের ঘোড়া
জর্ডানের এই রাজকুমারী ঘোড়া পছন্দ করতেন ভীষণ। এনডিটিভির তথ্যমতে, দুবাই শাসকের সাথে বিয়ের সময় রাজকন্যা প্রায় ৪০০টি ঘোড়দৌড়ের ঘোড়া কিনেছিলেন।
৪. ইতালি এবং গ্রীসে ছুটি কাটানো
বিলাসবহুল ছুটি কাটাতে কে না চায়? তাহলে রাজপরিবারের সদস্যরা কেমন ছুটি কাটান? বিভিন্ন খবর অনুযায়ী, এই দম্পতি একবার ইতালি ভ্রমণে ৮,৫০,০০০ মার্কিন ডলার খরচ করেছিলেন এবং গ্রীসে ছুটি কাটাতে তাদের হোটেলের বিল ছিল ৩ লাখ ডলারেরও বেশি।
৫. বিল গেটসের সন্তানদের উত্তরাধিকার সম্পত্তির চেয়েও তাদের সন্তানদের বার্ষিক ভাতা বেশি
এই দম্পতির সন্তান, ১৪ বছর বয়সী শেখ আল জালিলা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম এবং নয় বছর বয়সী শেখ জায়েদ বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম, জন্মসূত্রেই রাজকীয় সুবিধাগুলো উপভোগ করেন। বিবাহবিচ্ছেদের আগে তারা প্রতি বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভাতা পেতেন। এদিকে, বিল এবং মেলিন্ডা গেটস তাদের তিন সন্তানের জন্য প্রত্যেকে মাত্র ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেখে যাওয়ার কথা বলেছেন।
৬. মূল্যবান রত্ন পাথর
রাজকুমারী হায়া আদালতে দাবি করেছিলেন যে, ব্রিটেনে পালিয়ে যাওয়ার পরে তাকে কেবল কম মূল্যবান জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিচারককে বলেছিলেন যে, দুবাইতে তার ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের গহনা রয়েছে। এছাড়া, তার ডিজাইনকৃত পোশাকের মোট মূল্য ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৭. ব্যক্তিগত নার্স
রাজকুমারী হায়াকে বিবাহবিচ্ছেদের রায়ের পরে শিশুদের জন্য একজন আয়া এবং একজন নার্সের খরচ বাবদ প্রায় চার লাখ মার্কিন ডলার প্রদান করা হয়েছিল ।
৮. পোষা প্রাণি
এমনিতেই তাদের বিলাসবহুল সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে প্রচুর খরচ ছিল। হায়ার পছন্দের ঘোড়ার যত্ন নেওয়ার খরচ ছাড়াও অন্যান্য পোষা প্রাণীর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ব্যয় করা হতো।
৯. স্ট্রবেরি!
দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিনগুলোতে, রাজকুমারী হায়া এবং শেখ মোহাম্মদ একবার পরিবার এবং অন্যান্য কর্মীদের জন্য স্ট্রবেরি আনেন। এই কাজে তার প্রায় ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছিল।
